পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতে স্বস্তি পাচ্ছে শিল্প খাত, বাড়ছে নির্ভরতা

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ চালুর পর গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া প্রায় ৮৭ শতাংশ কমেছে বলে দাবি র‍্যাংকনের।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
সৌরবিদ্যুতের প্যানেল
সৌরবিদ্যুতের প্যানেল | প্রতীকী ছবি

গাজীপুরের কাশিমপুরে র‍্যাংকন শিল্প পার্কে সাড়ে তিন বছরেই বদলে গেছে বিদ্যুতের চিত্র। ধীরে ধীরে নিজেদের উৎপাদিত বিদ্যুৎই প্রতিষ্ঠানটির ভরসা হয়ে উঠছে। চাহিদার বড় অংশ মিটছে কারখানার ছাদে বসানো সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে।


২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিল্প পার্কের ছাদে ৩৫০ কিলোওয়াট-পিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে র‍্যাংকন। ধাপে ধাপে সক্ষমতা বাড়িয়ে তা এখন প্রায় ৪ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। এটি ৭ মেগাওয়াট-পিকে নিতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


ছাদে সৌরবিদ্যুৎ চালুর পর গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া প্রায় ৮৭ শতাংশ কমেছে বলে দাবি র‍্যাংকনের।


প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসানোর আগে শিল্প পার্কটিতে বছরে প্রায় ৪৭ লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ গ্রিড থেকে নেওয়া হতো। সৌরবিদ্যুৎ চালুর পর তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ ইউনিটে। এখন বছরে প্রায় ৪১ লাখ ৬ হাজার ৪০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সৌরব্যবস্থা থেকে পাওয়া যায়। অর্থাৎ শিল্প পার্কটির মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রায় ৮৭ শতাংশই এখন সৌরবিদ্যুৎ থেকে আসে।


কোম্পানিটির হিসাবে, প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থ উঠে আসতে প্রায় সাত বছর লাগবে।


র‍্যাংকনের মতো আরও বেশ কিছু কোম্পানি ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল বসিয়ে নিজেদের চাহিদার বড় অংশ মেটাচ্ছে। লোডশেডিংয়ের মধ্যে এ উদ্যোগ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমিয়েছে।


র‍্যাংকনের প্রকল্পে চীনা কোম্পানির প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানও চীনা প্রযুক্তি কোম্পানির প্যানেল, বিদ্যুৎ রূপান্তরকসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করছে।


বড় শিল্পকারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ তৈরির আগ্রহ বাড়ছে এমন সময়ে, যখন জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ পেতে বিভিন্ন কারখানাকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। লোডশেডিং নিয়মিত ভোগাচ্ছে। গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের বড় ব্যবধান থাকায় গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও প্রায়ই বসে থাকছে।


সাম্প্রতিক সময়ে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হয় ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। বড় এ ঘাটতির প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প, সিএনজি ও বাসাবাড়ির সরবরাহে।


এ পরিস্থিতিতে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ অনেক শিল্পের কাছে শুধু ‘সবুজ’ বিদ্যুতের উৎস নয়; বিদ্যুৎ খরচ ও জ্বালানির ঝুঁকি কমানোর ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তও হয়ে উঠছে।


জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমাতে ছাদে সৌরবিদ্যুতে নজর দিয়েছে আকিজবশির গ্রুপও। ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গ্রুপটির একটি কারখানায় আগে মাসে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল আসত। ছাদে ১৮ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও ব্যাটারি সংরক্ষণ চালুর পর বিল কমে চাহিদা মাশুল, মিটার ভাড়ার মতো নির্ধারিত খরচে নেমেছে বলে দাবি করেছে কোম্পানিটি।


আকিজবশির গ্রুপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক হুসাইন মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, সমন্বিত ব্যবস্থাটি প্রায় দুই মাস ধরে চলছে। এখন শুধু চাহিদা মাশুল, মিটার ভাড়ার মতো সামান্য খরচ দিতে হয়।


কারখানাটির বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় পরিবর্তনে ছাদের সৌর প্যানেলের পাশাপাশি ব্যাটারি ও বিদ্যুৎ রূপান্তরকের ভূমিকা রয়েছে। এসব সরঞ্জামের জন্য চীনের কয়েকটি কোম্পানিকে বেছে নিয়েছে গ্রুপটি।


আল আমিন বলেন, আকিজবশিরের বিভিন্ন কারখানায় এখন প্রায় ৯০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা রয়েছে। এর প্রায় ৯৫ শতাংশে চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্যানেল ব্যবহার করা হয়েছে।


র‍্যাংকন সোলারের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সুবাইল বিন আলম এ খাতের সংগঠন বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের একজন পরিচালক।


তাঁর হিসাবে, একটি কারখানার ছাদে এক মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসাতে এখন সাধারণত সাড়ে তিন থেকে সাড়ে চার কোটি টাকা লাগে। এর প্রায় ৫৫ শতাংশ যায় প্যানেলে, ২০ শতাংশ ইনভার্টারে এবং বাকি ২৫ শতাংশ কাঠামো, কেবল, আর্থিং ও অন্যান্য কাজে।


এক মেগাওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা থেকে মাসে গড়ে এক লাখ থেকে এক লাখ ২০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ডিজেল জেনারেটরের ব্যবহার কমানো ও বিল সমন্বয় ধরলে মাসে প্রায় ছয় থেকে সাত লাখ টাকা সাশ্রয় হতে পারে। নিজের অর্থে প্রকল্প করলে সাড়ে চার থেকে সাড়ে পাঁচ বছরে বিনিয়োগ উঠে আসতে পারে। ব্যাংকঋণের সুদ যোগ হলে সময় লাগতে পারে সাত থেকে নয় বছর, বলেন তিনি।


আকিজবশিরের কর্মকর্তা আল আমিনের হিসাবে, তাদের বড় প্রকল্পগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ আরও কম। কোনো কোনো প্রকল্পে ব্যাংকের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের ব্যয় প্রায় তিন টাকা।


তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ব্যাটারি যোগ হলে ইউনিটপ্রতি খরচ বাড়ে। তবে এতে ডিজেল লাগে না এবং গ্রিড চলে গেলেও উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে না।


ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বিস্তারকে শিল্পের গ্যাস-সংকটের সরাসরি সমাধান হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, মোটর, পাম্প, কম্প্রেসর, সেলাই বা কাটিং মেশিন, ইটিপি, প্যাকেজিং, আলো ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের মতো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সৌরবিদ্যুতে চালানো যায়। তবে বয়লার, স্টিম, ডাইং-ফিনিশিং, ফার্নেস বা ড্রায়ারের মতো উচ্চ তাপনির্ভর কাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন তাপ দরকার। সেখানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করতে গেলে অনেক বেশি প্যানেল ও বড় স্টোরেজ প্রয়োজন, যা এখন বেশির ভাগ কারখানার জন্য ব্যয়বহুল।


র‍্যাংকন সোলারের কর্মকর্তা সুবাইল বলেন, ‘সোলার বিদ্যুৎ দেয়, তাপ দেয় না।’


তাঁর হিসাবে, দিনের বেলায় একটি কারখানার বৈদ্যুতিক চাহিদার প্রায় ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে মেটানো সম্ভব। পর্যাপ্ত ছাদ থাকলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যায়।


ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) বাংলাদেশবিষয়ক জ্বালানি লিড অ্যানালিস্ট শফিকুল আলমের মতে, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ বাড়লে দিনের বেলায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ওপর চাপ কিছুটা কমানো সম্ভব। এতে সীমিত গ্যাসের বেশি অংশ শিল্পে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে।


টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, তাদের ডেটাবেসে নেট মিটারিংয়ের আওতায় ৫ হাজার ২৮টি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সক্ষমতা ৩৩৮ দশমিক ০৬৪ মেগাওয়াট-পিক। নেট মিটারিংয়ের বাইরে নথিভুক্ত আরও ৪৩৬টি ব্যবস্থার সক্ষমতা ৯৫ দশমিক ২৮৬ মেগাওয়াট-পিক। সব মিলিয়ে সরকারি তালিকায় ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সক্ষমতা ৪৩৩ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট-পিক।


তবে আইইইএফএর আগস্টের তথ্য বলছে, দেশে প্রকৃত সক্ষমতা এর চেয়ে বেশি হতে পারে। শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ইপিসি কোম্পানি, ইডকল ও অন্যান্য উৎসের তথ্য মিলিয়ে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠান ও শিল্পগোষ্ঠীতে ৬৬৭ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের হিসাব পেয়েছে সংস্থাটি। ১৫০ কিলোওয়াটের নিচের ছোট প্রকল্পগুলো এ হিসাবে ছিল না। সেগুলো ধরলে মোট সক্ষমতা এক হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি হতে পারে বলে তাদের ধারণা।


বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদের হিসাবে, শুধু শিল্প ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ ব্যবহার করেই প্রায় তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।


সরকারের লক্ষ্য আরও বড়। ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২৬–২০৩০’ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট এবং ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।


ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের প্রসারে সেপ্টেম্বর থেকে নতুন আর্থিক প্রণোদনা চালু করেছে সরকার। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা বসিয়ে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর জাতীয় গ্রিডে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ দিলে প্রতি ইউনিটের জন্য গ্রাহক পাবেন ১০ টাকা ৫০ পয়সা। এ সুবিধা ২০৩০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। অর্থ তিন মাস পরপর ব্যাংক হিসাবে দেওয়ার কথা।


ব্যাটারিসহ এ ধরনের সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ উৎপাদন ব্যয় ইউনিটপ্রতি আট টাকা ধরে প্রণোদনার হার নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।


শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আগে অভিযোগ করে আসছিলেন, বিভিন্ন সুবিধা ঘোষণা হলেও কর ও শর্তের কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ৮ সেপ্টেম্বর সরকার সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্দিষ্ট যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১৮০ দিনের জন্য ১ শতাংশের অতিরিক্ত শুল্ক, নিয়ন্ত্রক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর, আগাম কর ও অগ্রিম আয়কর থেকে অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।


তবে অর্থায়ন ও অনুমোদনের বাধা রয়ে গেছে। বাংলাদেশ সাস্টেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফার পর্যবেক্ষণ, বড় শিল্পগোষ্ঠীর ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও ছোট ও মাঝারি কারখানার জন্য কয়েক কোটি টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ বড় বাধা।


ইন্টারন্যাশনাল গ্রোথ সেন্টারের ৬৬১টি পোশাক কারখানার গবেষণায়ও একই চিত্র পাওয়া গেছে। নবায়নযোগ্য প্রযুক্তি ব্যবহারকারী কারখানাগুলোর ৯৪ শতাংশ পুরো বিনিয়োগ নিজেদের অর্থে করেছে। আর প্রযুক্তি ব্যবহার না করা কারখানাগুলোর ৬৫ শতাংশ উচ্চ প্রাথমিক ব্যয়কে প্রধান বাধা বলেছে।


আইইইএফএর তথ্য অনুযায়ী, কম সুদের সবুজ অর্থায়ন থাকলেও তহবিল সীমিত, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি জামানত চায় এবং নেট মিটারিংয়ের নির্ধারিত সময়সীমা থাকলেও অনুমোদনে দেরি হয়।


মোস্তফার মতে, দীর্ঘমেয়াদি কম সুদের অর্থায়ন, পরিচালন ব্যয় বা রেসকো মডেল এবং দ্রুত অনুমোদন ছাড়া বড় শিল্পের বাইরেও এ বাজার দ্রুত ছড়ানো কঠিন হবে।


বাংলাদেশের ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের বাজার এখনো মূলত আমদানিনির্ভর। প্যানেল, ইনভার্টার ও ব্যাটারির বড় অংশই চীন থেকে আসে। তবে সরঞ্জাম আমদানির পাশাপাশি সংযোজন, স্থাপন কাঠামো, কেবল, স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিক্রয়োত্তর সেবায় স্থানীয় সক্ষমতা তৈরির সুযোগ দেখছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


সম্প্রতি চীনের কয়েকটি সৌরপ্রযুক্তি কারখানা ঘুরে আসা আকিজবশির গ্রুপের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আল আমিন বলেন, ওয়েফার ও সেল থেকে পুরো সৌরপ্যানেল তৈরিতে বড় বিনিয়োগ, বিশেষায়িত প্রযুক্তি ও কাঁচামাল দরকার। বাংলাদেশের বর্তমান শিল্পভিত্তিতে পুরো উৎপাদনপ্রক্রিয়া গড়ে তোলা কঠিন হলেও বিদেশ থেকে সেল বা ওয়েফার এনে দেশে প্যানেল সংযোজন করা সম্ভব।


তাঁর মতে, স্থাপন কাঠামো ও কেবল স্থানীয়ভাবে তৈরি করা তুলনামূলক সহজ। ইনভার্টারের যন্ত্রাংশ আমদানি করে দেশে সংযোজন করা যায়। স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজেও স্থানীয় প্রকৌশলীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব।


চীনা প্রতিষ্ঠান সানগ্রোর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে তাদের স্থানীয় অংশীদার সুপিরিয়র ইলেকট্রোমেকানিক্যাল সার্ভিসেসের প্রকৌশলীদের ইনভার্টার স্থাপন, চালু করা ও ব্যবহার নিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে পরিবেশক হিসেবেও তালিকাভুক্ত করেছে সানগ্রো।


আমদানি করা প্রযুক্তির স্থাপন, চালু করা ও বিক্রয়োত্তর সেবায় দেশীয় কারিগরি সক্ষমতা তৈরির উদাহরণ হিসেবে এ উদ্যোগকে দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.