চৈত্রেও পঞ্চগড়ে কুয়াশার চাদর, ঝরছে শিশির
![]() |
| মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার শিংপাড়া এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
প্রকৃতিতে এখন চৈত্র মাস। সাধারণত এ সময় তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে এবং কড়া রোদ থাকে। তবে এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে পঞ্চগড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে সেখানে ঘন কুয়াশার মতো আবহাওয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শীত মৌসুমে পঞ্চগড়ে ঘন কুয়াশা দেখা গেলেও চৈত্র মাসে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক। সকালজুড়ে রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ ও গাছপালা সাদা আস্তরণে ঢেকে যেতে দেখা গেছে। অনেকেই একে ‘অকাল কুয়াশা’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তবে আবহাওয়াবিদেরা একে ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বলছেন। দখিনা বাতাস, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা, দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ার পাশাপাশি হঠাৎ বৃষ্টিকে এর মূল কারণ বলছেন তাঁরা।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এক সপ্তাহ ধরে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। একই সময়ে মাঝেমধ্যেই বৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার রাতে শুরু হওয়া বাষ্পীয় কুয়াশা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত স্থায়ী ছিল; সকাল আটটার পর সূর্যের দেখা মেলে।
বৃহস্পতিবার সকালে পঞ্চগড় পৌরসভা ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শীতের দিনের মতো ঘন কুয়াশায় ঢেকে আছে চারদিক। কোথাও কোথাও ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মতো পড়া জলকণায় ভিজেছে পিচঢালা সড়ক। প্রয়োজনীয় কাজে ঘর থেকে বের হয়েছেন অনেকেই; তাঁদের কারও গায়ে হালকা শীতের পোশাক, আবার কেউ স্বাভাবিক পোশাকেই বের হয়েছেন। ঘন কুয়াশার কারণে মহাসড়কে বাতি জ্বালিয়ে যানবাহন চলতে দেখা যায়।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার গোফাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সপিজুল ইসলাম (৬১) বলেন, ‘আজ সকালে উঠে দেখেছি, কুয়াশায় সাদা হয়ে গেছে। আগের দিনের বয়স্করা বলতেন, চৈত্রে কুয়াশা হলে বৈশাখে বন্যা হয়। এবার যে কী হয়, আল্লাহ জানেন।’
সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন আবদুর রাজ্জাক (৬০) নামের এক ব্যক্তি। তিনিও কুয়াশা দেখে অবাক হয়েছেন জানিয়ে বলেন, ‘চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আগে দেখিনি। কুয়াশায় কাপড় ভিজে যাচ্ছে। কিন্তু খুব বেশি শীত লাগছে না। কেমন যেন আজব আবহাওয়া।’
এমন আবহাওয়ায় স্বাস্থ্যসচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। জেলার সিভিল সার্জন মিজানুর রহমান বলেন, অসময়ে এমন কুয়াশায় জলীয় বাষ্পের সঙ্গে প্রচুর ধুলাবালি থাকে। সেগুলো মানুষের শ্বাসনালিতে প্রবেশ করলে ক্ষতি হতে পারে। এ ছাড়া ঠান্ডা ও গরমের পার্থক্যের কারণেও অনেকের শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ জন্য মুখাবরণ বা মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, জলীয় বাষ্প দ্রুত জমে যাওয়ার কারণে মূলত এমন আবহাওয়া দেখা দেয়। মৌসুমি বায়ু যখন সক্রিয় হয়ে ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি এসে শীতলতার সংস্পর্শে আসে, ঠিক তখন জলীয় বাষ্প জমে ছোট ছোট জলকণায় পরিণত হয়। এতেই এই ধরনের কুয়াশা তৈরি হয়।

Comments
Comments