[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

পাবনায় হামের টিকা নিতে কেন্দ্রে ভিড়, দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষায় ভোগান্তি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
টিকাদানকেন্দ্রগুলোয় ভিড় বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়ে টিকা নিতে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

পাবনায় হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে টিকাদানকেন্দ্রগুলোতে ভিড় বেড়েছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অভিভাবকদের শিশুদের নিয়ে টিকা নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ে টিকা না পাওয়া অনেক শিশু এখন কেন্দ্রে আসছে। কিছুদিন আগে টিকার ঘাটতি থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, এখন সেই সংকট কেটে গেছে।

জেলা শহরে সবচেয়ে বেশি টিকা দেওয়া হয় পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভা চত্বরের এক কোণায় অবস্থিত কেন্দ্রে তেরপল টাঙিয়ে টিকাদান চলছে। পুরো জায়গাটি মানুষে ঠাসা। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে অভিভাবকেরা শিশুদের নিয়ে টিকার জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময়ে হামের টিকা না পাওয়া অনেক অভিভাবক আজ সন্তানদের নিয়ে এসেছেন। ভিড় সামলাতে কর্মীদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।

শহরের শালগাড়িয়া এলাকা থেকে খাইরুল ইসলাম তাঁর দুই বছর বয়সী ছেলে সুলতান মোহাম্মদকে নিয়ে হামের টিকা দিতে এসেছেন। তিনি জানান, ছেলের ১৫ মাস বয়সে নির্ধারিত সময়ে টিকা দিতে কেন্দ্রে এসেছিলেন, কিন্তু তখন টিকা ছিল না। ১৭ মাস বয়সে দ্বিতীয়বার এসেও পাননি। টিকা আসার খবর পেয়ে আজ আবার এসেছেন এবং ছেলেকে টিকা দিতে পেরেছেন।

গোবিন্দা এলাকার সালেহা খাতুনও একই কথা জানান। তিনিও দুবার ফেরত গিয়ে আজ মেয়েকে টিকা দিতে পেরেছেন। সালেহা খাতুন বলেন, ‘হাম নিয়ে খুব ভয়ে আছি। মেয়ে টিকা পাচ্ছিল না, খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ টিকা পেয়ে শান্তি লাগছে।’ শিবরামপুর এলাকার জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক নারী বলেন, তাঁর মেয়ের আজ পোলিও টিকার নির্ধারিত দিন ছিল। কিন্তু কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে এই টিকা নেই। তাই তিনি মেয়েকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

টিকাদানকেন্দ্রের কর্মী শাহারা খাতুন বলেন, গত কয়েক মাসে মাঝেমাঝে হামের টিকার ঘাটতি হচ্ছিল। এক মাস ধরে পোলিওর টিকা নেই। বুধবার বিকেলে ২৬৪ শিশি হামের টিকা এসেছে, যা দিয়ে ১ হাজার ৩০০ শিশুকে টিকা দেওয়া যাবে। টিকা আসার খবরে আজ প্রথম দুই ঘণ্টাতেই প্রায় ১০০ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যে পরিমাণ টিকা আছে, তাতে আগামী দুই থেকে তিন দিন চলতে পারে।

পাবনা পৌরসভা টিকাদানকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েক মাস হামের টিকা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হওয়ায় অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি। এখন কিছু টিকা আসায় দুই থেকে চার দিন চালানো যাবে, এরপর আবার প্রয়োজন হবে। তবে পোলিও টিকার সরবরাহ প্রায় নেই বললেই চলে, ফলে অনেক শিশু ফিরে যাচ্ছে। জেলায় হামের প্রকোপ বাড়ায় অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে কেন্দ্রে ভিড় করছেন। এই সময়ে টিকার ঘাটতি হলে আমাদের জন্য তা বিব্রতকর হবে।’

এদিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত মোট ১৫৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে গত ১১ দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৫০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫ জন ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন শিশু ও দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। বর্তমানে হাসপাতালে ৪৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পাবনার সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হামে আক্রান্ত রোগী বাড়ায় টিকার ওপর চাপ বেড়েছে, তবে পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে। আমাদের কাছে বর্তমানে ২১ হাজার ৪৯০ ডোজ টিকা মজুত রয়েছে। আগে যে ঘাটতি ছিল, তা এখন নেই। আগামী রবিবার আরও টিকা আসার কথা রয়েছে, তাই আশা করছি টিকা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন