বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিপন্থীদের বিজয়
![]() |
| জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আইনজীবী সমিতির হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করেছে। গতকাল সোমবার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন গত রোববার রাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫টি পদের বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করে।
নির্বাচিত আইনজীবীরা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানীয় নেতা। ১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি হিসেবে শরীয়তপুর জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শরীয়তপুর জেলা কমিটির সদস্যসচিব মৃধা নজরুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও তাঁদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে প্রবীণ আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি মোসলেম উদ্দিন খানকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ছাড়া আইনজীবী মুরাদ হোসেনকে তাঁর কর্মস্থলে ঢুকে মারধর করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সে সময় বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও স্থানীয় নেতাদের বাধার মুখে আওয়ামী লীগপন্থী ও অন্যান্য দলের আইনজীবীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। সেবারও বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন।
গত সোমবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আইনজীবী সমিতির সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে। সেখানে দাবি করা হয়, নির্বাচনে কোনো প্রভাব বিস্তার করা হয়নি এবং কাউকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়া বা লাঞ্ছিত করা হয়নি। আইনজীবী মুরাদ হোসেনকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
আইনজীবী সমিতি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২ এপ্রিল নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। ২৫ এপ্রিল ভোট গ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। গত রোববার ছিল মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার দিন। বেলা ১১টা থেকে সমিতি ভবনের নিচতলার হলরুমে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে। এ সময় হলরুমের দরজার সামনে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা অবস্থান নেন এবং ভবনের সামনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের কর্মস্থলে গিয়ে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি সমর্থকদের বাধা উপেক্ষা করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে যান প্রবীণ আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন খান। তিনি বর্তমানে এনসিপির জেলা পর্যায়ের নেতা। হলরুমে প্রবেশ করতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। এর কারণ জানতে চাইলে বিএনপি সমর্থকেরা তাঁকে লাঞ্ছিত করে বের করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আইনজীবী সংগঠন ইসলামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুরাদ হোসেন মুন্সী সহসভাপতি পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর চেম্বারে ঢুকে নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার তাঁকে মারধর করেন। উল্লেখ্য, রুবায়েত আনোয়ার মুরাদ হোসেনের ভগ্নিপতি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগপন্থী এক আইনজীবী বলেন, ‘শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির বেশিরভাগ ভোটার আওয়ামী লীগ সমর্থক। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা জানেন যে সবার অংশগ্রহণে ভোট হলে তাঁরা জিততে পারবেন না। তাই দুই বছর ধরে আমাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে দেওয়া হচ্ছে না। গত রোববারও বাধা দেওয়া হয়েছে এবং অনেককে নিজেদের চেম্বারে গিয়ে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।’
তবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্যসচিব মৃধা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম থেকে একটি প্যানেল দেওয়া হয়েছিল। সেই প্যানেলের প্রার্থীদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অন্য আইনজীবীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। আমাদের কোনো আইনজীবী কাউকে বাধা দেয়নি।’
আইনজীবী সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কাশেম বলেন, একটি দলের কার্যক্রম বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই দলের পরিচয়ে কোনো নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া যায় না। শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির নির্বাচনেও এ বিষয়ে সব আইনজীবীর একমত ছিল।
নির্বাচন কমিশনার সুলতান নাসির জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে ১৫টি পদের বিপরীতে ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাই তাঁরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন এবং তাঁদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।

Comments
Comments