ঈশ্বরদীতে পেট্রোল নিতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে যুবক আহত
| তেল পাম্পে দাঁড়ানো নিয়ে বিরোধ যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
পাবনার ঈশ্বরদীতে ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে তেল নেওয়া নিয়ে কথা-কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে উজ্জ্বল হোসেন (৩৭) নামে এক যুবক আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আরামবাড়ীয়া এলাকায় মেসার্স মুনছুর ফিলিং স্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
আহত উজ্জ্বল হোসেন উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের ইলশামারী গ্রামের আকমল হোসেনের ছেলে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে ওই ফিলিং স্টেশনে দুই শতাধিক মোটরসাইকেল চালক পেট্রোল নেওয়ার জন্য ভিড় করেন। সেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে উজ্জ্বল সবাইকে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অচেনা কয়েকজন তাঁকে পেছন থেকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।
ফিলিং স্টেশনে আসা আরমান হোসেন নামে এক চালক বলেন, ‘আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ হইচই আর মারামারি শুরু হয়। পরে দেখি একজনের শরীর দিয়ে রক্ত ঝরছে। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।’
আহত উজ্জ্বল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘সকাল থেকেই পাম্পে খুব বিশৃঙ্খলা চলছিল। প্রতিবাদ করায় কয়েকজন অপরিচিত যুবক পুলিশের সামনেই আমাকে ছুরিকাঘাত করে। অথচ পুলিশ তখন চুপ ছিল।’
ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত ঈশ্বরদী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) খালেদ হাসান বলেন, ‘ভিড় সামলাতে আমাদের খুব কষ্ট হচ্ছিল। কয়েকজনের মধ্যে ঝগড়া দেখে এগিয়ে গিয়ে দেখি উজ্জ্বল হোসেন আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাঁকে অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করি।’
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আলী এহসান জানান, সকালে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো কাচ বা ওই ধরনের কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Comments
Comments