ময়মনসিংহে বাড়ির পাশে শিশুর মরদেহ উদ্ধার, বাবা ও সৎমা গ্রেপ্তার
![]() |
| শিশু হত্যার অভিযোগে বাবা ও সৎমা গ্রেপ্তার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
স্বামীর সঙ্গে কলহের জেরে সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান স্ত্রী। সন্তানের সঙ্গে বাবাকে দেখাও করতে দিতেন না তিনি। সেই ক্ষোভে নিজের সন্তানকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়ি থেকে এনে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় মামলা হওয়ার পর বাবা ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ময়মনসিংহের ত্রিশালে এই ঘটনা ঘটে।
বুধবার সন্ধ্যার পর উপজেলার হরিরামপুর রায়ের গ্রাম এলাকার রাস্তার পাশ থেকে লাবিব (৩) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটি ওই গ্রামের দিনমজুর সোহাগ মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক বছর ধরে শিশুটির মা লামিয়া আক্তার হরিরামপুর রায়ের গ্রামে বাবার বাড়িতে ছিলেন। বুধবার বিকেলে শিশুটির বাবা সোহাগ মিয়া শ্বশুরবাড়িতে এসে সন্তানকে নিজের বাড়িতে নেওয়ার কথা বলে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশেই শিশুটির নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ত্রিশাল থানায় নিয়ে আসে।
এই ঘটনায় শিশুটির মা লামিয়া আক্তার বাদী হয়ে স্বামী সোহাগ মিয়া ও তাঁর প্রথম স্ত্রী জাকিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে গফরগাঁও উপজেলার বাখুরা গ্রাম থেকে রাত সোয়া তিনটার দিকে সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে জাকিয়া আক্তারকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন বলেন, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে শিশুটির মা সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। বাবার সঙ্গে সন্তানের দেখাও করতে দিতেন না তিনি। এই কারণে দ্বিতীয় স্ত্রীকে কষ্ট দিতে রাগে-ক্ষোভে সন্তানকে গলা টিপে হত্যা করেন সোহাগ মিয়া। হত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা ও আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে সোহাগ মিয়ার প্রথম স্ত্রী জাকিয়াকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁদের দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Comments
Comments