[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

উত্তরাঞ্চলের ৪ জেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট

প্রকাশঃ
অ+ অ-
তেল পাম্প | প্রতীকী ছবি

খুলনার দৌলতপুর থেকে রাজশাহী ও নাটোর রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে দেড় মাস ধরে ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের কৃষিনির্ভর চার জেলা—রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁয় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন রাষ্ট্রায়ত্ত পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তেল কোম্পানির শতাধিক পরিবেশক। বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে বিকল্প উৎস থেকে তাঁদের জ্বালানি আনতে হচ্ছে। নাটোরে চলতি বোরো মৌসুমে সেচ কার্যক্রম নিয়ে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত এই সংকট সমাধানের দাবি উঠেছে।

রাজশাহী ও নাটোরের প্রধান ডিপোতে জ্বালানি তেল না পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তিন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানির খুলনার দৌলতপুর ডিপোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী ও নাটোর রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে শুধু ডিজেল পাঠানো হয় খুলনার দৌলতপুর ডিপো থেকে। সরকারি তিন বিপণন কোম্পানির ৩০টি ওয়াগনের মাধ্যমে সপ্তাহে ১০ থেকে ১৫ লাখ লিটার ডিজেল পাঠানো হতো। পরিবেশকেরা সরাসরি রেলওয়ের ওয়াগন থেকে এই তেল সংগ্রহ করতেন। কিন্তু গত দেড় মাস ধরে এই সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

পদ্মা অয়েলের খুলনার দৌলতপুর ডিপোর ইনচার্জ মো. দিদারুল আলম বলেন, প্রধান কার্যালয়ের সিদ্ধান্তে প্রায় দেড় মাস ধরে রাজশাহী ও নাটোর রেলওয়ের প্রধান ডিপোতে জ্বালানি তেল পাঠানো হচ্ছে না। সর্বশেষ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী এবং ২০ ফেব্রুয়ারি নাটোরে তেল পাঠানো হয়েছিল। এরপর আর কোনো চালান পাঠানো হয়নি। যমুনা ও মেঘনা অয়েলের দৌলতপুর ডিপোর ইনচার্জরাও একই কথা জানিয়েছেন।

চলনবিল-অধ্যুষিত নাটোরে বোরো আবাদে সেচ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জেলায় প্রায় আড়াই কোটি লিটার ডিজেলের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ সংকটে প্রয়োজনমতো তেল পাচ্ছেন না চাষিরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলায় ৫৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের জন্য ২ কোটি ৪৬ লাখ ৪৩ হাজার ৫১৪ লিটার ডিজেল প্রয়োজন।

গত মঙ্গলবার দুপুরে নলডাঙ্গা ও সিংড়ার কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা হয়। নলডাঙ্গার পূর্ব সোনাপাতিল গ্রামের আসাদুজ্জামান জানান, যখন সেচ দেওয়া খুব জরুরি, তখনই তেলের সরবরাহ নেই। সেচ দিতে না পারলে আবাদ নষ্ট হয়ে যাবে।

জ্বালানি তেল বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাসির উদ্দীন এজেন্সির মালিক সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঠিকমতো তেল পাচ্ছি না। কৃষকেরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। তেল দিতে না পেরে দোকান বন্ধ রাখতে হচ্ছে।’

আগে রাজশাহীর রেলওয়ে ডিপো থেকেই তেল নিতে পারতেন জ্বালানি তেল বিক্রয় কেন্দ্রের মালিকেরা। এখন সেখানে তেল না থাকায় তাঁদের সড়কপথে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ডিপো থেকে তেল আনতে হচ্ছে। এতে তাঁদের খরচ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে।

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার হাটগাঙ্গোপাড়ার মেসার্স গাঙ্গোপাড়া ফিলিং স্টেশনের মালিক সারোয়ার জাহান সবুর জানান, রেলস্টেশন সংলগ্ন ডিপো থেকে তেল নিলে খরচ কম হতো। এখন তেলের লরিতে করে সিরাজগঞ্জ থেকে তেল আনতে গিয়ে খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন