[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ইউএনওর বিরুদ্ধে বৃদ্ধকে তুলে নিয়ে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ইউএনও ইসরাত জাহান ছনি | ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমির খাজনা আদায়ের নিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে মাইকিং করার জেরে এক ব্যক্তিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী হোসাইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান টুটুল অভিযোগ করেন, একই খতিয়ানের সব জমির ওপর খাজনা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে তিনি মাইকিং করছিলেন। ওই সময় তাঁকে জোর করে ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

ভুক্তভোগী টুটুল উপজেলার কোলাহাট ইউনিয়নের কয়াভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং রজনীগন্ধা ফাউন্ডেশনের সভাপতি। তিনি জানান, তাঁর নামে মাত্র পাঁচ কাঠা জমি থাকলেও খতিয়ানের মোট প্রায় ৯ একর জমির খাজনা পরিশোধ না করলে ভূমি অফিস খাজনা নেয় না। এই নিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি ভূমি অফিসের সামনে ভ্যানে মাইকিং করছিলেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক সুমন হোসেন তাঁকে ধরে ইউএনওর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ইউএনও তাঁকে অত্যন্ত খারাপ ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং কাগজ চাপা দেওয়ার ভারী কাচ (পেপার ওয়েট) ছুড়ে মারেন, যা তাঁর বুকে আঘাত করে। পরে গাড়িচালকও তাঁকে ঘুষি মারেন। ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে টুটুল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সাদেকুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, ‘ওই ব্যক্তি ভূমি অফিসের সামনে মাইকিং করছিলেন। তাঁকে ভ্যানসহ ইউএনও অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুনেছি তাঁকে মারধর করা হয়েছে। কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই যদি এভাবে দমন করা হয়, তাহলে আমরা কোন দেশে বাস করছি?’

এদিকে ভ্যানচালক ফাহিম জানান, তাঁকেও আটকে রাখা হয়েছিল এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও মাইকটি রেখে দেওয়া হয়।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) গাড়িচালক সুমন হোসেন বলেন, ‘আমি শুধু গাড়ি চালাই। পুলিশ তাঁকে নিয়ে আসে, আমি শুধু পৌঁছে দিয়েছি। মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।’

বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ‘ওই সময় সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছিল। সহকারী কমিশনার (ভূমি), পুলিশ ও গাড়িচালক উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়।’

তবে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পলাশ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অফিসে ডাকা হয়েছিল। তিনি কার প্ররোচনায় মাইকিং করছিলেন, সেটি জানতে চাওয়া হয়। আইনটি ইউএনও বা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৈরি করেননি। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি নিজে খোঁজখবর নিয়েছি। কিন্তু এর সত্যতা পাইনি। কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে একজন নাগরিককে ইউএনওর মারধরের প্রশ্নই আসে না। আমি এর কোনো সত্যতা পাইনি। আপনারা ভালো করে খোঁজখবর নিয়ে দেখতে পারেন।’

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন