[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শ্রেণিকক্ষে হেলমেট পরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নিরাপত্তাহীনতার প্রতীকী প্রতিবাদে হেলমেট পরে ক্লাসে দুই শিক্ষার্থী। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, ২ এপ্রিল | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের ছাদের পলেস্তারা ধসে দুই শিক্ষার্থী আহত হওয়ার এক দিন পর নিরাপত্তার দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন দুই শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকালে হেলমেট পরে ক্লাসে অংশ নিয়ে তাঁরা এই প্রতীকী প্রতিবাদ জানান।

গণিত বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের নাঈম ও মাহমুদুল হাসান সকালে মোটরবাইকের হেলমেট মাথায় দিয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। তাঁদের এই ব্যতিক্রমী উপস্থিতি পুরো ক্যাম্পাসে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সহপাঠীরা জানান, সকালে ক্লাস শুরুর আগে ওই দুই শিক্ষার্থী হেলমেট পরে আসেন। প্রথমে বিষয়টি অনেকে রসিকতা হিসেবে নিলেও পরে জানা যায়, এটি মূলত ভবনের নিরাপত্তাহীনতার বিরুদ্ধে একধরনের প্রতিবাদ।

শিক্ষার্থী নাঈম বলেন, ‘বুধবার ছাদের পলেস্তারা পড়ে সহপাঠীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ ক্লাসে বসে নিজেকে নিরাপদ মনে করছি না। নিজের নিরাপত্তার জন্যই হেলমেট পরেছি, সেই সঙ্গে এটি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের একটি চেষ্টা।’ দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে আতঙ্ক আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।

নাঈম ও মাহমুদুলের সহপাঠী তানজিম আহমেদ মিথিল বলেন, ‘এটি হাসির বিষয় নয়, বরং বাস্তবতার প্রতিফলন। আমরা সত্যিই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিজানুর রহমান জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং তারা জরুরি ব্যবস্থা নেবে। বর্তমানে গণিত বিভাগের ১১৯, ১২০ ও ১২১ নম্বর কক্ষ তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে সাময়িক ও শ্রেণি পরীক্ষাগুলো নেওয়া হচ্ছে।

ছাদের খসে পড়া পলেস্তারা। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা, ১ এপ্রিল | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

অধ্যাপক মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘আমি যে কক্ষে বসে আছি, সেটিও বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও দায়িত্ববোধ থেকে সেখানে অবস্থান করছি।’

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সেমিনার কক্ষে ছাদের পলেস্তারা খসে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের তানভীর নিয়াজ ফাহিম ও মাহফুজুর রহমান মিতুল আহত হন। এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত ঝুঁকি ও প্রশাসনিক অবহেলা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষগুলোতে যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে। সংস্কারকাজ দ্রুত শুরু করার চেষ্টা চলছে।

তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের উদ্বেগ কমবে না।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন