[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ঘুষের প্রস্তাবক কারা? নাম প্রকাশে এমপি আমির হামজাকে নোটিশ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা | ছবি: সংগৃহীত

৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাবদাতাদের নাম প্রকাশের দাবিতে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন এক ব্যক্তি। নোটিশদাতা হৃদয় হাসান কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সোনাপুর নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

গত বুধবার হৃদয় হাসানের পক্ষে কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবী আব্দুল মজিদ নোটিশটি পাঠান। এতে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের আইনের হাতে তুলে দিতে হবে।

হৃদয় হাসান বলেন, ‘বুধবার দুপুরের পর আইনি নোটিশটি সংসদ সদস্য বরাবর পাঠানো হয়েছে। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবকারীর পরিচয় প্রকাশ বা আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। যদি তা না করা হয়, তবে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া শহরে একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমির হামজা বলেন, ‘সব মিলিয়ে শুধু মেডিকেল কলেজের জন্য এই তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার বেশি দেওয়ার প্রস্তাব এসেছে। বিষয়টি আল্লাহ ছাড়া কেউ জানবে না। আমি বলেছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি বা পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার জায়গা থেকে একচুল নড়ব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পাঁচ বছর যদি দায়িত্বে থাকি, তবে একটি টাকাও যেন না বাড়ে, সেভাবেই চলতে চাই।’

পরদিন আমির হামজার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অনেকেই কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখতে ঘুষ দিতে চাওয়া ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশের দাবি জানান।

এর প্রায় এক মাস পর গত বুধবার ছাত্রদলের এই নেতা আইনি নোটিশ পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘আমির হামজা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময় জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে দাবি করেছেন যে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য তিনি তিন দিনে ৫০ কোটি টাকা ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করেননি। উপরন্তু বলেছেন, কুষ্টিয়া লিখে দিলেও তাঁর অবস্থান বদলানো যাবে না।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ছবিসহ আপনার (সংসদ সদস্য) বক্তব্যের অংশ ব্যাপকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, শরিয়াহ আইন ও রাষ্ট্রীয় আইনে ঘুষদাতা ও ঘুষগ্রহীতা উভয়েই সমান অপরাধী। আপনাকে যাঁরা ঘুষ দিতে চেয়েছেন, তাঁদের নাম প্রকাশ না করে আপনি শুধু ভালো মানুষ সাজার জন্য ৫০ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ করেননি বলে প্রচার করেছেন। ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ না করা এবং আইনের হাতে তুলে না দেওয়ার অর্থ হলো আইনের দৃষ্টিতে অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া।’

এ বিষয়ে হৃদয় হাসান বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এই আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় জনগণ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। কারা এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে, আমরা তা জানতে চাই। প্রয়োজনে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘আমির হামজা মেডিকেল কলেজ চালু নিয়ে বললেন, তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব পেয়েছেন। অথচ তাঁকে কারা টাকার প্রস্তাব দিয়েছে, তাদের নাম বলছেন না। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। তিনি জনসমক্ষে ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ করুন।’

এ বিষয়ে জানতে রাত ১১টার দিকে আমির হামজার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাঁর শ্যালক আবু বকর সিদ্দীক জানান, সংসদ সদস্য অধিবেশনে ছিলেন। ফোন বন্ধ রেখে বিশ্রামে আছেন। নোটিশ এখনো হাতে আসেনি। তাই এই বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। নোটিশ পেলে পরবর্তী সময়ে বক্তব্য দেওয়া হবে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন