[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

এসি বগি ও কেবিনসহ চলবে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটের ট্রেন

প্রকাশঃ
অ+ অ-
কক্সবাজার রেলস্টেশন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

চলাচল শুরুর এক বছর পর অবশেষে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি যুক্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে চলাচল করা সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে। এই দুটি ট্রেনে শীতল আসন ও শোয়ার ঘরের সুবিধা থাকবে। বর্তমানে এই পথে দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেন চলাচল করলেও তাতে এসব সুবিধা নেই। ফলে যাত্রীদের সাধারণ বগিতেই যাতায়াত করতে হয়।

যাত্রীদের চাহিদা এবং আরামদায়ক ভ্রমণের কথা ভেবে প্রবাল ও সৈকত এক্সপ্রেসে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি যুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। তবে কবে থেকে এসব বগি নিয়ে ট্রেনগুলো চলাচল করবে, সেই সময় এখনো ঠিক করা হয়নি।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে বর্তমানে চলাচল করা আন্তনগর ট্রেনের মান বাড়াতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতেই শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি যুক্ত করা হবে। বর্তমানে শীতল বগি না থাকায় এই পথে ট্রেনে যাতায়াতে যাত্রীদের আগ্রহ কম।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে রেলওয়ের নতুন পথ হিসেবে কক্সবাজার যুক্ত হয়। শুরুতে ঢাকা থেকে বিরতিহীন আন্তনগর ট্রেন চালু করা হয়। প্রথম দিকে চট্টগ্রাম থেকে কোনো ট্রেন ছিল না। পরে এক জোড়া বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছিল। একপর্যায়ে ইঞ্জিন ও বগির সংকটে তা বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে দুই জোড়া নিয়মিত ট্রেন চালু করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিরতিহীন পর্যটক ও কক্সবাজার এক্সপ্রেস চলাচল করে।

যাত্রী কল্যাণ পরিষদের নেতাদের অভিযোগ, যাত্রীদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে পথ চালুর প্রায় এক বছর পর চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে নিয়মিত ট্রেন দেয় রেলওয়ে। তবে আন্তনগর ট্রেন নাম দেওয়া হলেও সেখানে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা ছিল না। ট্রেনের বগিগুলোও ছিল অনেক পুরোনো। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি ও শোয়ার ঘরের সুবিধা না থাকায় অনেক যাত্রী ট্রেনে যাতায়াতে আগ্রহ হারান। জনপ্রিয় ও যাত্রীদের ব্যাপক চাহিদা থাকা এই পথে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বগি না দেওয়াটা হতাশাজনক।

এই পথের যাত্রীরা বলছেন, শীতল বগি যুক্ত হওয়ায় ট্রেনে যাতায়াত বাড়বে। বিশেষ করে পর্যটকদের জন্য এটি বড় স্বস্তি নিয়ে আসবে। তবে সেবার মান, সময়ের ঠিকঠাক রক্ষা এবং টিকিট ব্যবস্থাপনা উন্নত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথে বর্তমানে দুই জোড়া ট্রেন চলাচল করে। মূলত একটি ইঞ্জিন ও বগির সেট দিয়েই এই দুই জোড়া ট্রেন চালানো হয়। অর্থাৎ একটি ট্রেন প্রতিদিন চারবার আসা-যাওয়া করে। বর্তমানে যেসব বগি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো অনেক পুরোনো। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম পথের মহানগর এক্সপ্রেসে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আনা নতুন বগি যুক্ত করা হয়েছে। এই ট্রেনের আগের বগিগুলোই এখন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথের ট্রেনে যুক্ত করা হবে। এই বগিগুলো ২০২০ সালে ইন্দোনেশিয়া থেকে আনা হয়েছিল।

রেলওয়ের পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সৈকত ও প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন ১৬টি বগি নিয়ে চলাচল করে। পুরোনো বগিগুলো বদলে ফেলা হবে। নতুন করে এতে ১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শোয়ার ঘর, ১টি সাধারণ শোয়ার ঘর, ৩টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত আসন (স্নিগ্ধা), ৮টি শোভন আসন, ১টি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বগি এবং পণ্য ও রক্ষী রাখার ২টি বগি থাকবে। প্রতিটি ট্রেনে প্রায় সাড়ে সাত শ আসন রয়েছে।

বর্তমানে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় সৈকত এক্সপ্রেস। কক্সবাজারে পৌঁছানোর পর সকাল ১০টায় প্রবাল এক্সপ্রেস নামে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। বিকেলে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর আবার বেলা ৩টা ১০ মিনিটে প্রবাল এক্সপ্রেস হিসেবে এই ট্রেন কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কক্সবাজার থেকে রাত ৮টা ১০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় সৈকত এক্সপ্রেস। সোমবার এই আন্তনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি।

রেলওয়ের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার পথের আন্তনগর ট্রেনে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। মহানগর এক্সপ্রেস থেকে সরিয়ে নেওয়া বগিগুলো এখানে যুক্ত করা হবে। যদিও কবে থেকে এসব বগি নিয়ে ট্রেন চলাচল করবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তিনি বলেন, রেলওয়ের জনপ্রিয় পথগুলোর মধ্যে কক্সবাজার অন্যতম। চট্টগ্রাম থেকে এই পথে যাত্রীদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষের উন্নত মানের ট্রেনের দাবি ছিল। শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বগি যুক্ত করা হলে যাত্রীরা স্বস্তিতে ও আরামে যাতায়াত করতে পারবেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন