[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ৯০ শতাংশ শিশুই টিকা নেয়নি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীরা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রাজশাহী বিভাগের তিন জেলায় হামের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বগুড়া ও নওগাঁ জেলায় ইতিমধ্যে বেশ কিছু রোগী শনাক্ত হয়েছে। বগুড়ায় হামের লক্ষণ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে জয়পুরহাটে এখনো নিশ্চিত কোনো রোগী পাওয়া না গেলেও উপসর্গ থাকায় শিশুদের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ল্যাব পরীক্ষায় বগুড়ায় ১২ জন এবং নওগাঁয় ৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। জয়পুরহাটে গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, পাবনা থেকে আশপাশের জেলাগুলোতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু, যাদের প্রায় ৯৫ শতাংশের বয়স দেড় মাস থেকে ৯ মাসের মধ্যে। তবে কিছু প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও পাওয়া গেছে।

চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুর বয়স ৯ মাসের নিচে, যা বেশ চিন্তার বিষয়। রাজশাহী অঞ্চলে হামে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগের বয়সও ৯ মাসের কম। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের প্রায় ৯০ শতাংশই টিকা নেয়নি বলে জানা গেছে।

সবশেষ তথ্যমতে, বগুড়া জেলায় ৩৬ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এদের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে ৫ জন এবং মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ৬ জন ভর্তি রয়েছে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-এ-মুর্শেদ জানান, বুধবার ভোর ৪টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হুমায়রা নামের ১০ বছরের এক শিশু মারা গেছে। হামের লক্ষণ দেখে মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

বগুড়া জেলা সিভিল সার্জন ডা. খুরশিদ আলম জানান, জেলায় ৩৬ জন সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৫ জনের নমুনা পরীক্ষার ফল এসেছে, যেখানে ১২ জন পজিটিভ ও ১৩ জন নেগেটিভ। বাকি ১১ জনের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

চিকিৎসকেরা জানান, আক্রান্তদের ৯০ শতাংশই এক বছরের কম বয়সী এবং বেশির ভাগই টিকা পায়নি। পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বগুড়ায় বর্তমানে টিকা কার্যক্রম চলছে।

নওগাঁ জেলায় এখন পর্যন্ত আটজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। উপসর্গ নিয়ে পাওয়া গেছে ৪১ জন রোগী। সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা দিয়েছে নওগাঁ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড এবং নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নে।

নওগাঁ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় শয্যাসংকট দেখা দিয়েছে। অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

নওগাঁর সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে আলাদা শয্যা বা আইসোলেশন বিভাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে এবং রোগী খোঁজার কাজ জোরদার করা হয়েছে।

জয়পুরহাটে এখনো নিশ্চিত কোনো রোগী পাওয়া যায়নি। তবে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫ শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার বয়স ৫ মাসের নিচে বলে জানা গেছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন