শিবালয়ে বালু উত্তোলন নিয়ে দ্বন্দ্ব, গুলিতে নিহত ১
![]() |
| গুলিবিদ্ধ জাহাঙ্গীরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় বালু উত্তোলন নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল আলোকদিয়া এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের একটি বালুমহালের ইজারাদারের সঙ্গে তেওতা বালুমহালের ইজারাদার কাওছার আলম খানের দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই বিরোধের জেরে ইজারাদার কাওছারের ব্যবস্থাপক মিরাজ হোসেনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মিরাজ পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
শিবালয় থানার পুলিশ ও বালুমহাল ইজারাদার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেওতা এলাকায় একটি বালুমহাল রয়েছে। শুক্রবার বিকেলে আলোকদিয়া এলাকায় যমুনা নদীর তীরে মিরাজ ও শ্রমিকেরা কাজ করছিলেন। এ সময় দ্রুতগামী নৌযানে করে একদল দুর্বৃত্ত এসে ফাঁকা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ায়। এরপর তারা মিরাজ ও জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজনকে কুপিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় লোকজন মিরাজকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আহত জাহাঙ্গীরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তেওতা বালুমহালের ইজারাদার কাওছার আলম জানান, গত বুধবার বিকেলে অপরিচিত এক ব্যক্তি বিদেশি নম্বর থেকে তাঁকে মুঠোফোনে হুমকি দেন। হুমকিদাতা বলেন, বড় নৌযানে বালু বিক্রি করলে তাঁকে খুন করা হবে। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।
শুক্রবার রাত নয়টার দিকে জেলা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে কাওছার আলম সাংবাদিকদের বলেন, যমুনা নদীর উজানে সিরাজগঞ্জের এক বালুমহাল ইজারাদারের লোকজন এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে তিনি ধারণা করছেন।
শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মানবেন্দ্র বালো বলেন, খবর পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নেতৃত্বে পুলিশের ১২ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সাধারণ হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

Comments
Comments