জবিতে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি, দাবি কুষ্টিয়ায় পীর হত্যার বিচার
![]() |
| কুষ্টিয়ায় পীরকে হত্যার প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্যের সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মাজারে হামলা, আগুন দেওয়া ও পীর শামীম রেজাকে হত্যা, রাজধানীর শাহবাগে ভিন্নধর্মী মানুষের ওপর হামলা এবং সারা দেশে গণপিটুনির প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাত্তরের গণহত্যা ভাস্কর্যের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মানবাধিকার লঙ্ঘন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও বিচারহীনতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সমাজে অসহিষ্ণুতা ও সহিংসতার আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরে। ভিন্ন পরিচয় বা বিশ্বাসের মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীব বলেন, যারা সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের রাজনীতি করে, তাদের ওপর নির্ভর করেই অতীতে স্বৈরতন্ত্র টিকে ছিল। এখনো যদি তারা নিজেদের না শুধরায়, তবে তাদের পরিণতিও আগের মতোই হবে।
ইংরেজি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইয়েদ্যা মুবাশ্বিরা বলেন, ‘আমাদের বাংলাদেশ বহু ভাষা, বহু বৈচিত্র্য, বহু জাতি, ধর্ম ও লিঙ্গের দেশ। এটি আগে থেকেই ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। কিন্তু একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী আমাদের শান্তি ও সম্প্রীতির ওপর আঘাত হানার চেষ্টা করছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি যেন সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খিজির আল সিফাত বলেন, রাষ্ট্রের বর্তমান বাস্তবতা হচ্ছে—মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই, জ্বালানি তেলের সংকট রয়েছে। এসব সমস্যা নিয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হচ্ছে না। সেখানে একে অন্যকে দোষারোপ করে সংসদকে অনেকটা তামাশার কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।
সমাবেশ থেকে বক্তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। সেই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

Comments
Comments