[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

পুলিশের চোখে ‘পলাতক’, অথচ আদালতে গিয়ে জামিন পেলেন সাজ্জাদের ২ সহযোগী

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর দুই সহযোগী বোরহান উদ্দিন ও মোবারক হোসেন | ছবি: সংগৃহীত

বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী তাঁরা। তাঁদের একজন মোবারক হোসেন ওরফে ইমন এবং অন্যজন বোরহান উদ্দিন। নির্মাণাধীন ভবনের মালিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি, চাঁদা না পেয়ে গুলি চালানো এবং প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে হত্যার মতো নানা ঘটনায় বারবার তাঁদের নাম এসেছে। চট্টগ্রাম নগর পুলিশ তাঁদের হন্যে হয়ে খুঁজলেও হদিস পাচ্ছিল না। তবে পুলিশ তাঁদের খুঁজে না পেলেও তাঁরা উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন। চট্টগ্রামের আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় এই দুই সন্ত্রাসী গত ১ ফেব্রুয়ারি ছয় সপ্তাহের জামিন পান। আদেশটি গত ২৯ মার্চ বাকলিয়া থানায় পৌঁছানোর পর পুলিশ তাঁদের জামিনের বিষয়ে জানতে পারে।

দুই সন্ত্রাসীর জামিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া। তিনি জানান, পুলিশ তাঁদের খুঁজছিল, এর মধ্যেই তাঁরা জোড়া খুনের মামলায় জামিন পেয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারি আইনজীবীদের জানানো হচ্ছে।

২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। ওই রাতে সন্ত্রাসীরা বাকলিয়া এক্সেস রোডে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে ব্যক্তিগত গাড়িতে থাকা বখতিয়ার হোসেন ও মো. আবদুল্লাহকে হত্যা করে। নিহত দুজন বড় সাজ্জাদের দল ছেড়ে আসা সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গাড়িতে সরোয়ারও ছিলেন, তবে তিনি বেঁচে যান।

‘সন্ত্রাসী’ আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবর, সরোয়ার হোসেনসহ নগর ও জেলার রাউজান, হাটহাজারীতে খুন ও চাঁদাবাজিতেও সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে দুজনের নাম রয়েছে। গত বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় আকবরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। সরোয়ারকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় গুলি করে হত্যা করা হয় গত বছরের ৫ নভেম্বর। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনে (বোয়ালখালী-চাঁদগাঁও) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে ছিলেন। গুলবিদ্ধ হয়ে আহত হন এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন।

পুলিশ জানায়, পোশাক কারখানা থেকে ঝুট কেনাবেচার নিয়ন্ত্রণ এবং বড় সাজ্জাদের আধিপত্য ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ওই রাতে সরোয়ার হোসেনকে হত্যার জন্য হামলা চালানো হয়। সেই হামলায় তাঁর দুই অনুসারীর মৃত্যু হয়। সে রাতে প্রাণে বাঁচলেও পরে ৫ নভেম্বর সরোয়ারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। জোড়া খুনের ঘটনার পরদিন ৩১ মার্চ থানায় মামলা করা হয়। এই মামলায় মোবারক ও বোরহান এজাহারভুক্ত আসামি।

শুধু জোড়া খুন নয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী আকবর আলী ওরফে ঢাকাইয়া আকবর ও সরোয়ার হোসেনসহ নগর এবং জেলার রাউজান ও হাটহাজারীতে খুুন ও চাঁদাবাজিতেও সাজ্জাদের সহযোগী হিসেবে এই দুজনের নাম রয়েছে। গত বছরের ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় আকবরকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়। গত বছরের ৫ নভেম্বর বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় সরোয়ারকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই সময় তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনে (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে ছিলেন। ওই হামলায় এরশাদ উল্লাহসহ আরও পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।

কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে সবশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসায় গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। মোস্তাফিজুর রহমানের ভাই মুজিবুর রহমান ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ স্মার্ট গ্রুপের কাছে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না পেয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি প্রথম দফায় মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় গুলি করা হয়। গুলিতে বাসার জানালার কাচ ভেঙে যায়। এর দুই মাসের মাথায় আবারও সেখানে গুলি চালানো হয়।

সাজ্জাদের সহযোগী মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের মো. মুসার ছেলে। জোড়া খুন ও ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ সাতটি মামলার আসামি তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর কিছু ছবিতে ১৫-২০টি অস্ত্র বহনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনেছিলেন এই মোবারক। অন্যদিকে বোরহানের বিরুদ্ধে রয়েছে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও খুনের আটটি মামলা।

পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারির ব্যর্থতার কারণেই আলোচিত এই দুই সন্ত্রাসীকে ধরা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবদুস সাত্তার। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা পুলিশের দায়িত্ব। যেহেতু তাঁরা জামিন নিয়েছেন, তাই এখন রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি মফিজুল হক ভূঁইয়া জানান, রাষ্ট্রপক্ষ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেবে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন