গলার চেইন ছিনিয়ে নিতেই শিশু হত্যা, লাশ মিলল চুলার ভেতর
![]() |
| মরিয়ম আক্তার | ছবি: সংগৃহীত |
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে নিখোঁজ চার বছরের এক শিশুর মরদেহ পাওয়া গেছে প্রতিবেশীর রান্নাঘরের চুলার ভেতরে। শিশুটি দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিল। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগমুহূর্তে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ধারণা করছে, শিশুটিকে গলায় থাকা রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত শিশুর নাম মরিয়ম আক্তার (৪)। সে সরিষা ইউনিয়নের মারুয়াখালি গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির মেয়ে।
স্থানীয়রা এবং পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১টার পর থেকে মরিয়মকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা দিনভর হন্যে হয়ে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। ইফতারের আগমুহূর্তে এক প্রতিবেশীর বাড়ির রান্নাঘরের চুলার ভেতরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ওই প্রতিবেশী ও তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘কিশোরটি নেশাগ্রস্ত। আমরা ধারণা করি, শিশুটির গলায় থাকা রুপার চেইন ছিনিয়ে নিতে গিয়ে তাকে হত্যা করেছে।’
পুলিশ জানায়, মরিয়ম আক্তারের গলায় ১২ আনা ওজনের রুপার চেইন ছিল। কিশোরটি নেশার টাকার জন্য সেই চেইন ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করলে শিশুটি কান্না শুরু করে। তখন তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে রান্নাঘরের চুলার ভেতরে লাশ ফেলে দেয়। পরে ওই চেইন আঠারবাড়ি বাজারের একটি দোকানে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রবিউল আজম বলেন, ‘শিশুটির গলায় থাকা রুপার চেইনের জন্য এই হত্যার ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত কিশোরকে আমরা হেফাজতে নিয়েছি। তার বাবাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরিয়ম আক্তারের লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Comments
Comments