[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা রাজধানী, মাঠে থাকছেন ১৬ হাজার পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তার কাজে লাগানো হচ্ছে ছবি: ডিএমপি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন।

ঈদের টানা সাত দিনের ছুটিতে রাজধানী প্রায় ফাঁকা হয়ে যাওয়ার সময় মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় অন্তত ১৬ হাজার পুলিশ ও র‍্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় সড়কে তল্লাশিচৌকি বসানো হচ্ছে এবং বিপণিবিতান ও আবাসিক এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হয়েছে। এই সময়ে স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজধানী ছাড়বেন। ফলে ফাঁকা শহরে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এবং সোনার মার্কেটে ডাকাতির ঝুঁকি বেশি থাকে।

ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ঈদের ছুটিতে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ ঠেকাতে রাতের বেলায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশি টহল ও তল্লাশিচৌকি।

ডিএমপির কর্মকর্তারা জানান, আগের ঘটনাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঈদের ছুটির সময় সোনার দোকানে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকর্মীকে বেঁধে রেখে, আবার কখনো তাঁদের যোগসাজশে এসব ডাকাতি সংঘটিত হয়। এসব অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবারের ঈদের আগে ও পরে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজিয়েছে ডিএমপি ও র‍্যাব।

যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানান, ঈদের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঘরমুখী মানুষ ঢাকা ছাড়ার পর ঈদের কেনাকাটা, বিপণিবিতান, বিভিন্ন টার্মিনাল ও স্থাপনায় দায়িত্ব পালন করা অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য এবং সড়কে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, অলিগলি ও আবাসিক এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োজিত করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে স্পর্শকাতর স্থান, সড়ক, স্থাপনা, বিপণিবিতান, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চ টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

মো. সরওয়ার বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রমজান মাসে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের হাতেও অস্ত্র দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তাঁরা হাতেনাতে ছিনতাইকারী ধরছেন। সাদাপোশাকে পুলিশ ও তথ্যদাতাদের মাধ্যমে অপরাধীদের চলাচল নজরে রেখে তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঈদের ছুটিতে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি ঠেকাতে রাতের বেলায় পুলিশি টহল ও তল্লাশিচৌকি বাড়ানো হয়েছে। পুরান ঢাকাসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকার সোনার মার্কেটে পুলিশের কড়া নজরদারি থাকবে। বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার ও আড়তের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্পর্শকাতর স্থান, সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিপণিবিতান, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে। ছিনতাইকারী, ডাকাত, অজ্ঞান ও মলম পার্টির সদস্যদের ধরতে পুলিশ ও র‌্যাবের বিশেষ দল কাজ করছে।

রাতে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে বিশেষ ডিউটি করানো হচ্ছে। প্রতিদিন তিন পালায় ডিএমপির সাড়ে ৪ হাজার সদস্য মোট ৩০০ পিকআপ ভ্যানে শহরজুড়ে টহল দিচ্ছেন।

ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোজার শুরু থেকেই বিভিন্ন বিপণিবিতানে এক হাজারের বেশি অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রাতে ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বিশেষ দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে। প্রতিদিন তিন পালায় ডিএমপির সাড়ে ৪ হাজার সদস্য প্রায় ৩০০টি পিকআপ ভ্যানে শহরজুড়ে টহল দিচ্ছেন। এর বাইরে প্রতিদিন তিন পালায় দেড় হাজার পুলিশ সদস্য পায়ে হেঁটে টহল দিচ্ছেন এবং মোটরসাইকেলে নিয়মিত টহল অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে প্রতিদিন তিন পালায় চার হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে তাঁদের অস্ত্রও দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ঈদ উপলক্ষে পুলিশের নজর দুটি বিষয়ে বেশি। প্রথমত, টার্মিনালগুলো থেকে মানুষ যেন কোনো হয়রানি ছাড়া বাড়ি ফিরতে পারে। দ্বিতীয়ত, ফাঁকা হয়ে যাওয়া আবাসিক এলাকা। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি ফাঁকা থাকলে চুরি বা সিঁধ কাটার ঝুঁকি থাকে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত টহল রাখা হবে। বড় মার্কেট ও সোনার মার্কেটগুলোতেও ডাকাতি ঠেকাতে পুলিশের টহলের পাশাপাশি বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

জাতীয় ঈদগাহে গতকাল বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা তল্লাশি চালায় র‍্যাব | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন 

ঈদের আগে ও পরে র‍্যাব ১, ২, ৩, ৪ ও ১০–এর প্রায় এক হাজার সদস্য ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছেন।

র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, পুলিশের মতো র‍্যাবও ঈদের ছুটিতে ঢাকাসহ সারা দেশে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীতে প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা বাড়ে। এ কারণে সম্ভাব্য স্থান চিহ্নিত করে ঢাকায় প্রতিদিন ৩০টির বেশি তল্লাশিচৌকি এবং ৫০টির বেশি টহল দল কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতে র‍্যাবের সাইবার নজরদারি দল কাজ করছে। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং মহাসড়কে ডাকাতি ঠেকাতে টহল দল সক্রিয় রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডগ স্কোয়াড ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন