রেশনিং প্রথা উঠলেও পাম্পগুলোতে মিলছে না চাহিদামতো তেল
![]() |
| জ্বালানি তেল কেনার জন্য মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, শাহবাগ, ঢাকা। ১৭ মার্চ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং প্রথা গত রবিবার থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে রাজধানীর সব ফিলিং স্টেশনে গ্রাহকেরা চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না। কোথাও এখনো আগের নিয়মে রেশনিং করে তেল বিক্রি হচ্ছে, আবার কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আসাদ গেট, বিজয় সরণি, পরীবাগ, মতিঝিল, রাজারবাগ ও মগবাজারের ১০টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রাজারবাগ পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা এবং ব্যক্তিগত গাড়িতে ৫০০ টাকার বেশি অকটেন দেওয়া হচ্ছে না। এত কম তেল কেন দেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে পাম্পের কর্মচারী মো. ইমন বলেন, ‘ডিপো থেকে এই বিধিনিষেধ দেওয়া আছে। আমাদের কিছু করার নেই।’
এই পাম্পে যানবাহনের ভিড় খুব বেশি না হলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। প্রায় ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল নিয়েছেন মামুন হোসেন। তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে কুষ্টিয়ায় যাবেন।
মামুন হোসেন বলেন, ‘২০০ টাকার তেল তো রিজার্ভেই শেষ হয়ে যাবে। সরকার বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার পরও তেল নিয়ে এমন হয়রানি করার কোনো মানে হয় না। এত কম তেল নিয়ে বেশি দূর যাওয়া যাবে না। অন্য কোনো পাম্প থেকে আবার তেল নেওয়ার চেষ্টা করব।’
![]() |
| পূবালী ফিলিং স্টেশনে গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন। ১৭ মার্চ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
তবে দৈনিক বাংলা মোড়ের নাভানা পাম্পে বেলা একটায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই পাম্পে অনেক মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি এসে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে পাম্পের কর্মচারী খোকন শেখ বলেন, সকাল থেকে গাড়ির চাপ বেশি থাকায় দুপুর নাগাদ তেল শেষ হয়ে গেছে। তেলের গাড়ি পুনরায় এলে আবার সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
দুপুর ১২টায় রাজধানীর পরীবাগের মেঘনা মডেল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে তেল পাচ্ছেন গ্রাহকেরা। মেঘনা পাম্পের পাশের পূর্বাচল ট্রেডার্স পাম্পেও কিছু সময় অপেক্ষা করে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে।
সকালে আসাদ গেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের সারি প্রায় এক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। সেখানে মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি, ছোট বাস ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন অপেক্ষা করছিল। তবে অন্য দিনের তুলনায় মোটরসাইকেলের সারি ছিল কিছুটা ছোট।
এই পাম্পে তেলের জন্য প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেছেন মো. জসিম নামের এক ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। তিনি বলেন, অন্য দিন আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতো, আজ তুলনামূলক কম সময় লেগেছে।
তবে আসাদ গেটের আরেকটি পাম্প তালুকদার ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকে তেল দেওয়া হলেও সকাল ১০টার কিছু আগে হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এই পাম্পে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে দেখা গেছে।
![]() |
| আসাদ গেটের সোনার বাংলা সার্ভিস পাম্প স্টেশনে সকালে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষমান যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল। ১৭ মার্চ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. আজম জানান, তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আপাতত তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। তেল এলে পুনরায় সরবরাহ করা হবে। এই পাম্পে গাড়ির জ্বালানির জন্য অপেক্ষায় ছিলেন শিহাব আহমেদ সুজন নামের এক ব্যক্তিগত গাড়ির চালক। তিনি বলেন, ‘সকাল ১০টার কিছু আগে হঠাৎ তেল দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে তেল শেষ হয়ে গেছে।’
প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে পাম্পের কাছাকাছি এসেছিলেন এই চালক। কিন্তু এখন তেল শেষ হওয়ার ঘোষণা শুনে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজ ছুটির দিন হলেও তেলের জন্য এত লম্বা লাইন। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, বুঝতে পারছি না।’
বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনেও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। সেখানে মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং ব্যক্তিগত গাড়ির সারি জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে।
মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং অ্যাপে কাজ করেন রাসেল আহমেদ। প্রায় ৫০ মিনিট অপেক্ষা করে তিনি ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে কথা হলে তিনি জানান, এবারের ঈদের ছুটিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে পাবনায় গ্রামের বাড়ি যাবেন। তাই ট্যাংক ভর্তি করে তেল নিতে এত দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করছেন।



Comments
Comments