[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা পুরস্কার, নিয়ম নিয়ে আলোচনা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
 জাফরুল্লাহ চৌধুরী | ফাইল ছবি 

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৫ জন ব্যক্তি এবং পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দেওয়ার জন্য মনোনীত করেছে সরকার। এই তালিকায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নামও রয়েছে। এবার তিনিসহ সাতজনকে মরণোত্তর এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।

তবে স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিদের আগের তালিকা অনুযায়ী, জাফরুল্লাহ চৌধুরী ১৯৭৭ সালেই এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, পুরস্কার প্রবর্তনের প্রথম বছরেই ১০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। সেই তালিকায় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ক্ষেত্রে অবদানের জন্য জাফরুল্লাহ চৌধুরীর নাম রয়েছে।

বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সমাজসেবা ও জনসেবা ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে আবারও মনোনীত করা হয়েছে।

স্বাধীনতা পুরস্কার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে গৌরবময় ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। সাধারণত একজন ব্যক্তি একবারই এই সম্মাননা পান।

এমন পরিস্থিতি নিয়ে আগের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকেও একই ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীকে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়ার আলোচনা প্রসঙ্গে গত বছর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছিল, এর আগে কোনো বাংলাদেশির দুইবার দেশের সর্বোচ্চ পুরস্কার পাওয়ার নজির নেই। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওসমানী ১৯৮৫ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পাওয়ায় তাঁকে আবার এই পুরস্কার দেওয়ার আলোচনা পরে বাদ দেওয়া হয়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে’ সার্বিক অবদানের জন্য মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী, সমাজসেবায় জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও মাহেরীন চৌধুরী, সংস্কৃতিতে বশির আহমেদ এবং জনপ্রশাসনে কাজী ফজলুর রহমান মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন।

অন্যদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম, সংস্কৃতিতে এ কে এম হানিফ (হানিফ সংকেত), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় সাইদুল হক, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মোহাম্মদ আবদুল বাকী, এম এ রহিম ও সুকোমল বড়ুয়া এবং পরিবেশ সংরক্ষণে আবদুল মুকিত মজুমদার এই সম্মাননা পাচ্ছেন।

পাঁচটি প্রতিষ্ঠানও এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছে। এগুলো হলো—ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), এসওএস শিশু পল্লী এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

এমন প্রেক্ষাপটে ১৯৭৭ সালে পুরস্কার পাওয়া একজন ব্যক্তির নাম আবারও তালিকায় আসায় বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। এটি নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নাকি পুরোনো তালিকার তথ্যগত ভুল, সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

মন্ত্রিপরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষরকারী অতিরিক্ত সচিব মো. হুমায়ুন কবির জানান, কাগজপত্র না দেখে এই বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো আইনি বিষয় নয়, বরং সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকার চাইলে দ্বিতীয়বারও দিতে পারে। তবে সাধারণভাবে কেউ একবার পেলে তাঁকে আর দেওয়া হয় না।

প্রথা অনুযায়ী, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন