পটিয়ায় কিশোরকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা
![]() |
| নিহত হাসান বাবু | ছবি: সংগৃহীত |
‘ও বাবা, ও বাবা, তোর প্রাণ কেন চলে গেল!’—ছেলের লাশের পাশে বসে বিলাপ করতে করতে এভাবেই আর্তনাদ করছিলেন মা হাছিনা আকতার। তাঁর একমাত্র ছেলে মো. হাসান বাবুর (১৬) রক্তমাখা লাশ পড়ে ছিল বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরের একটি মাঠে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। কীভাবে ছেলের প্রাণ গেল, তা কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না মা।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের কুরানগিরি গ্রামের একটি বিল থেকে গত রোববার রাতে হাসান বাবুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানায়, মহিষ চরানো নিয়ে বিরোধের জেরে গত রোববার বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে কুরানগিরি গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চৈতার মার খালের ঢালে হাসান বাবুকে পিটিয়ে ও গলা টিপে হত্যা করা হয়। হাসান ওই গ্রামের মো. আমিনুল হকের একমাত্র ছেলে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত রোববার দিবাগত রাত একটার দিকে মো. জয়নাল আবেদীন ওরফে লিমন (২০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার লিমনকে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম তাররাহুম আহমেদের আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, হাসানকে কয়েকজন মিলে হত্যার পর খালে ফেলে দিয়েছিলেন তাঁরা।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার লিমনসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন হাসান বাবুর মা হাছিনা আকতার। মামলার অভিযোগে বলা হয়, কুরানগিরি গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে লিমনের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল তাঁদের। এর আগে তাঁরা হাসান ও তাঁর মাকে একাধিকবার হত্যার হুমকিও দিয়েছিলেন। এ নিয়ে গ্রামে সালিস বৈঠকও হয়েছিল।
পুলিশ ও পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের ফোরকান নামের এক ব্যক্তির ১১টি মহিষ গত পাঁচ দিন ধরে মাঠে চরাত কিশোর হাসান। গত রোববারও সকাল সাতটার দিকে মহিষগুলো নিয়ে সে খালের পাশের বিলে ঘাস খাওয়াতে যায়। দুপুরে বাড়িতে এসে ভাত খেয়ে আবার মাঠে চলে গেলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত আর ফেরেনি। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে খালের ঢালে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর শরীরে মাটি লেগে ছিল, নাক-মুখে রক্ত এবং গলায় নখের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
হাছিনা আকতার জানান, তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকায় ছেলে হাসান তাঁকে ভারি কোনো কাজ করতে দিত না। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে সে মায়ের জন্য গরম পানি ও চা-নাশতার ব্যবস্থা করত। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘আমার একমাত্র ছেলেকে ছাড়া আমি কীভাবে থাকব।’ হাসানের আগে তাঁর আরও দুটি ছেলে জন্মের পর মারা যায়। এখন আর তাঁর কোনো সন্তান নেই। তাঁর দাবি, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি এর কঠিন বিচার চান।
পটিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) যুযুৎসু যশ চাকমা জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং একই বাড়ির পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Comments
Comments