[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের বিষয়ে আলোচনা, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শের পর সিদ্ধান্ত

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি থাকার বাধ্যবাধকতা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উপস্থিতিতে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের নিয়ে এই আলোচনা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য সহায়ক হবে না; বরং এতে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

একসময় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রয়োজন হতো না। পরে ২০২৪ সালের মে মাসে নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কমিটির নিয়ম সংশোধন করে সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা কমপক্ষে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) বা সমমানের ডিগ্রি করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এই যোগ্যতা আরও বাড়ানো হয়। তখন সিদ্ধান্ত হয়, পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হতে স্নাতকোত্তর বা চার বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। আর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির ক্ষেত্রে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়।

এখন সেই যোগ্যতা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সভায় উপস্থিত একটি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান জানান, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আগের নিয়মগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দু-তিন দিন পর এ বিষয়ে তাদের নির্দেশনা দেবে।

এ ছাড়া পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়োগে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতা থাকবে না বলেও সভায় আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানের কাছে তিনজনের নামের তালিকা যাবে। সেখান থেকে একজনকে সভাপতি করা হবে।

দেশে বর্তমানে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে প্রায় ৩৫ হাজার। কলেজ পর্যায়ের পরিচালনা কমিটিকে বলা হয় পরিচালনা পর্ষদ এবং মাধ্যমিক স্তরের কমিটিকে বলা হয় ব্যবস্থাপনা কমিটি । প্রতিষ্ঠানের তহবিল সংগ্রহ, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ বা অব্যাহতি, ছুটি মঞ্জুর, বাজেট অনুমোদন ও বেতন বিলে সই করাসহ প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ কাজ এই কমিটির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান বলেন, এমন সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই নেওয়া উচিত হবে না। এটি করার অর্থ হবে আবারও পেছন দিকে যাওয়া, যা খুবই আত্মঘাতী হবে। তিনি সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও ভালো কিছু করার অনুরোধ জানান।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন