ফেসবুকে প্রেম, দেখা করতে গিয়ে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ
| ধর্ষণ | প্রতীকী ছবি |
ফেসবুকের মাধ্যমে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্কের জেরে এক তরুণের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকায় এক কিশোরী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় করা মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা মঙ্গলবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চারজনকে আদালতে পাঠানো হয়। তাঁরা আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনকে কারাগারে ও দুজনকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ঘটনার সঙ্গে পাঁচজন জড়িত। তবে যার সঙ্গে ফেসবুক সম্পর্কের জেরে কিশোরী সেখানে গিয়েছিল, তাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে ধরার চেষ্টা চলছে।
কিশোরীর পরিবারে কেউ না থাকায় ১৫ মার্চ সে নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করে। এই ঘটনায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ও থানার পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন ভালুকা উপজেলার মো. হোসাইন (২১), মো. মেহেদী হাসান (২০) এবং ১৭ বছর বয়সী দুই কিশোর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৪ মার্চ রাতে ভালুকায় এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সে ময়মনসিংহ শহরের একটি বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে (ডায়াগনস্টিক সেন্টার) চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করে। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জে। মা-বাবার মৃত্যুর পর ১০ বছর ধরে সে সৎমায়ের কাছে বড় হয়েছে। দুই মাস আগে সৎমায়ের নির্যাতনে বাড়ি ছেড়ে ময়মনসিংহে চলে আসে সে।
পুলিশ জানায়, ছয় মাস ধরে ফেসবুকে ‘জিসান ইসলাম’ নামের একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে কিশোরীর। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে ১৪ মার্চ রাতে ওই কিশোরী ময়মনসিংহ থেকে বাসে করে ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে যায়। সেখানে এক তরুণ তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যান। কিশোরীর সন্দেহ হলে সে যেতে রাজি হয়নি। পরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় এবং একটি খালের পাড়ে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ভালুকা মডেল থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
Comments
Comments