কক্সবাজারে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক নিহত, তরুণী আটক
![]() |
| নিহত খোরশেদ আলম | ছবি: সংগৃহীত |
কক্সবাজারে ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন ঝাউবাগানের ভেতরের কবিতা চত্বর এলাকায় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
নিহত খোরশেদ কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউসুলুলঘোনা এলাকার শাহ আলমের ছেলে। তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তবে কোনো পদপদবি ছিলেন না। ছুরিকাঘাতের ঘটনার পর তারিন নামে এক তরুণীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। ঘটনার সময় তারিন খোরশেদের সঙ্গে ছিলেন এবং তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছমি উদ্দিন জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় খোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ঘনিষ্ঠজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খোরশেদের সঙ্গে থাকা এক নারীকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।”
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, রাতে কবিতা চত্বর এলাকায় অবস্থানকালে দুই যুবক খোরশেদ আলমের ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পেট, পা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করেন ওই যুবকেরা।
ঘটনার সময় খোরশেদের সঙ্গে থাকা তারিন জানান, কবিতা চত্বরে অবস্থানকালে হঠাৎ দুজন যুবক এসে খোরশেদকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেন। এরপর বলেন, ‘কী আছে, দিয়ে দাও।’ একপর্যায়ে খোরশেদকে ছুরিকাঘাত করা হয়।
নিহতের খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা রাত সোয়া একটার দিকে কক্সবাজার শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শহর ঘুরে তারা পুরোনো শহীদ মিনার এলাকায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন। মিছিলে জেলা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা বক্তব্য দেন।
সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ছাত্রদলকর্মী খোরশেদ আলমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সৈকতসহ শহরজুড়ে কিশোর গ্যাং ও ছিনতাইকারীর দৌরাত্ম্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে, অথচ পুলিশ নির্বিকার।
জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাহিমুর রহমান বলেন, কবিতা চত্বরসহ সৈকত এলাকায় লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল নেই। খোরশেদ হত্যাকাণ্ড শান্ত পর্যটন শহরের জন্য অশনিসংকেত।
সমাবেশে পুলিশি নির্লিপ্ততার অভিযোগ তোলেন জেলা এনসিপির মুখপাত্র ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খালেদ বিন সাঈদ। তিনি বলেন, দ্রুত খোরশেদ হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করুন, নয়তো বদলি হয়ে যান। কক্সবাজারে আপনাদের প্রয়োজন নেই।
কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ওসমান সরওয়ারও সমাবেশে উপস্থিত হয়ে খোরশেদ আলম হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

Comments
Comments