নানা অভিযোগে পাঁচ নির্বাচনী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
![]() |
| ব্যালট বাক্স | প্রতীকী ছবি |
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের রাত নানা অভিযোগে সিলেট, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি ও সিরাজগঞ্জে নির্বাচন–সংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত পাঁচজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সিলেট: জেলার জৈন্তাপুর উপজেলায় জামায়াত নেতার বাড়িতে দাওয়াত খেয়ে এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে আটক হন এক পোলিং এজেন্ট। ঘটনা ঘটে ভিত্রিখেল পূর্ব গ্রামে, গত রাত সাড়ে বারোটার দিকে। পরে আনোয়ার হোসেন নামের ওই পোলিং এজেন্টকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়া আনোয়ার হোসেন ভিত্রিখেল উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট ছিলেন। পেশায় তিনি মাদ্রাসার শিক্ষক। নির্বাচনের আগের দিন দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে আসেন। তবে একপর্যায়ে জামায়াতের এক নেতার বাড়িতে দাওয়াত খেতে গেলে, সেখানে পোলিং কর্মকর্তার সঙ্গে জামায়াত নেতার গোপন বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিএনপির সমর্থক ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে ঘেরাও করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ তাঁকে আটক করে।
জৈন্তাপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘ভিত্রিখেল কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট রাতের বেলা দুই ঘণ্টা কেন্দ্রের বাইরে ছিলেন। তিনি কোথায় ছিলেন, এ বিষয়ে সদুত্তর দিতে পারেননি। তাই তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
লক্ষ্মীপুর: সদর উপজেলার নলডুগি মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে রাত দেড়টার দিকে একজন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও একজন পোলিং এজেন্টকে আটক করা হয়। তারা হলেন এম এ ওসমানি ও মো. ইকবাল হোসেন। এম এ ওসমানি দক্ষিণ টুমচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মো. ইকবাল হোসেন গন্ধব্যপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্রের পাশে জামায়াত নেতার বাড়িতে খাবার খাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানার পর স্থানীয়রা তাঁদের ঘেরাও করেন। পরে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে চন্দ্রগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়।
লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল হক বলেন, ‘সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রের পাশে একটি বাড়িতে গিয়েছিলেন। স্থানীয়রা তাঁকে ঘেরাও করে রাখেন। পরে প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ তাঁকে থানায় নিয়ে আসে।’
খাগড়াছড়ি: জেলার মাটিরাঙা উপজেলার আমতলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান জামায়াত নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগে জনতার ঘেরাওয়ের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ইউএনও তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করেন।
আমতলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি সেন্টারে কাজ করছিলাম। মাহমুদুল হাসান ভোরে নামাজ পড়তে গেছিলেন। পরে অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।’
সিরাজগঞ্জ: জেলার রায়গঞ্জ উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চারজনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় একটি ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনা ঘটে ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কয়ড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র এলাকায়।
অভিযান চলাকালে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ রানা অর্থদণ্ড দেন। ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবুল খায়ের শেখকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তিনি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ঘুড়কা শাখার কর্মকর্তা।

Comments
Comments