তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার ৮৪ আসনে সহিংসতার শঙ্কা, বিশেষ নজরদারি পুলিশের
| ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন |
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে অন্তত ৮৪টিতে কড়া লড়াই হতে পারে। এ কারণে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন এসব আসনে উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে। পুলিশের একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে এই আসনগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একাধিক শক্তিশালী প্রার্থীর উপস্থিতি, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ, স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের তৎপরতা এবং স্থানীয় রাজনীতির জটিল সমীকরণের কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব আসনে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা।
গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ঢাকা বিভাগের ১৮টি আসনে ভোটের লড়াই হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি। আসনগুলো হলো—ঢাকা-৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫; টাঙ্গাইল-৩, ৪, ৫ ও ৮; গোপালগঞ্জ-২ ও ৩; মাদারীপুর-১ ও ২; কিশোরগঞ্জ-৫; মানিকগঞ্জ-১; মুন্সিগঞ্জ-৩ এবং ফরিদপুর-১।
ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ঢাকা-১১ আসনে লড়ছেন বিএনপির এম এ কাইয়ুম ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বিপরীতে লড়ছেন বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
ঢাকা বিভাগের অন্য আসনগুলোতেও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শীর্ষ নেতা, জোটের শরিক দল, স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে বেশ সক্রিয়। কোথাও কোথাও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে, এমনকি দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিবেদনে চট্টগ্রাম বিভাগের ১৮টি আসনেও তীব্র লড়াইয়ের কথা বলা হয়েছে। আসনগুলো হলো—ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৫; কুমিল্লা-২, ৪, ৭ ও ১১; নোয়াখালী-২, ৫ ও ৬; লক্ষ্মীপুর-২ ও ৩; চট্টগ্রাম-৩, ১০ ও ১১; কক্সবাজার-২ ও ৪; চাঁদপুর-৪ এবং রাঙামাটি। এসব আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের শক্তিশালী প্রার্থীর পাশাপাশি কোথাও কোথাও প্রভাবশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। একাধিক রাজনৈতিক শক্তির সক্রিয়তা, অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের অবস্থানের কারণে এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ছে।
রংপুর বিভাগের ১২টি আসনকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো—পঞ্চগড়-১ ও ২; দিনাজপুর-১, ২, ৪, ৫ ও ৬; গাইবান্ধা-৪ ও ৫; কুড়িগ্রাম-৪; নীলফামারী-২ এবং ঠাকুরগাঁও-২। রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ-২, ৩ ও ৪; পাবনা-১, ৩, ৪ ও ৫; রাজশাহী-৪ ও ৫ এবং সিরাজগঞ্জ-৫ আসনেও কড়া লড়াই হতে পারে।
খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা-১, ঝিনাইদহ-৩, যশোর-১, নড়াইল-২, বাগেরহাট-৪, খুলনা-৫ ও ৬ এবং সাতক্ষীরা-১ আসন; বরিশাল বিভাগের বরগুনা-১ ও ২; পটুয়াখালী-২, ৩ ও ৪; ভোলা-১ ও বরিশাল-৫ আসন; ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ-১, ৫, ৬, ৮ ও ১০; নেত্রকোনা-৩ ও শেরপুর-৩ আসন এবং সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ-১ ও ৪ এবং মৌলভীবাজার-২ ও ৪ আসনেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, রংপুর ও চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কিছু আসন এবং সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান বেশ মজবুত। ফলে এসব এলাকায় ভোটের লড়াই অনেক বেশি জমজমাট হতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চিহ্নিত আসনগুলোতে প্রার্থীরা নিজেদের শক্তির জানান দিতে পারেন। জয় নিশ্চিত করার চেষ্টা থেকে কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন উত্তেজনা বা সংঘাত দেখা দেওয়ার ঝুঁকি আছে। বড় ধরনের গোলযোগের আশঙ্কা না থাকলেও নির্বাচনী পরিবেশ শান্ত রাখাটা চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, ৮৪টি আসনের পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে এলাকাগুলোকে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৫ হাজার ৮৪৭টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা দেবে পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে যাতে কোনো সংঘাত না হয়, সে জন্য বিশেষ পরিকল্পনা ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
Comments
Comments