[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগের নেতারা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
মাদারীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের বাঁ পাশে বসে আছেন শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান এবং ডান পাশে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে | ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তারের উঠান বৈঠকে উপস্থিত হয়েছেন দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কার্যক্রম-নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আলোচিত অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী। বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করতে তাঁরা এই উঠান বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তব্যও দিয়েছেন। এমনকি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন তাঁরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শিবচর পৌরসভার খান বাড়িতে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

আওয়ামী লীগের এসব নেতার দাবি, তাঁরা সাবেক প্রধান সচেতক (চিফ হুইপ) নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের নির্দেশে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন জানাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের এমন অবস্থানকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির একাংশের নেতা-কর্মীরা বলছেন, মাদারীপুর-১ আসনটি আওয়ামী লীগ প্রভাবিত এলাকা। জেলার বর্তমান ও সাবেক সব জনপ্রতিনিধি আওয়ামী লীগ ও সাবেক প্রধান সচেতক নূর-ই আলম চৌধুরী লিটনের অনুসারী। সাবেক এই সংসদ সদস্যের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর থেকে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে উঠান বৈঠকগুলোতে হাজির হয়ে বিএনপির প্রার্থীর প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। এর ফলে বিএনপি প্রার্থী নাদিরা আক্তার তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর তুলনায় ভোটের মাঠে এগিয়ে গেছেন বলে মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর-১ আসনের প্রার্থী নাদিরা আক্তার গত সোমবার থেকে আওয়ামী লীগের নেতাদের নিয়ে উঠান বৈঠক করে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পৌরসভার খান বাড়িতে বড় পরিসরে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে সরাসরি প্রার্থীর পাশে বসেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা।

পৌর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন খানের সভাপতিত্বে উঠান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান, যুগ্ম আহ্বায়ক জহের গোমস্তা, সদস্য আবু জাফর চৌধুরী ও পৌর বিএনপির সদস্যসচিব আজমল খানসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতারা। উঠান বৈঠকটি পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব সোহেল রানা।

সভায় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জানিয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. আওলাদ হোসেন খান, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বিএম আতাহার ব্যাপারী এবং শিবচর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ইলিয়াস পাশা।

এ ছাড়া চরজানাজাত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন রায়হান সরকার, কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহসিন উদ্দিন, বহেরাতলা উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন হায়দার, মাদবরেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলু মুন্সি, বাঁশকান্দী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান খোকন বায়াতি, কুতুবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাজী আতিকুর মাদবর ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলরসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

উঠান বৈঠকে শিবচর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আক্তার হোসেন খান ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে তিন মিনিটের বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। বক্তব্য শেষে তিনি ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলেন।

উঠান বৈঠকে বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার বলেন, ‘আমাদের আগামীর রাষ্ট্রনায়ক ও আমাদের দলের চেয়ারম্যান বলেছেন, সবার আগে বাংলাদেশ। তাই আমরা বলব, সবার আগে শিবচর। আমরা মিলেমিশে এক হয়ে চলব। ঐক্যবদ্ধভাবে বিএনপিকে জয়ী করে আনতে হবে। একতাবদ্ধ না থাকলে আমাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারব না। কে কোন দল করল সেটা বড় বিষয় নয়, আসল বিষয় হলো আমরা সবাই মানুষ।’ নাদিরা আক্তার আরও বলেন, ‘আগামীতে শিবচরে কারও নামে কোনো মিথ্যা মামলা থাকবে না। নির্বাচনের পর আপনাদের (আওয়ামী লীগ নেতাদের) কোনো অযথা হয়রানি করা হবে না। আমরা এক থাকলে শিবচরকে আধুনিক হিসেবে গড়ে তোলা কঠিন হবে না। আমরা সবাই মিলে শিবচরকে গড়ব।’

জানতে চাইলে শিবচর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খান বলেন, তাঁরা (আওয়ামী লীগ নেতারা) বিএনপি প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে এসেছেন। এখানে কোনো দলকে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত (পুনর্বাসন) করা হয়নি।

বিএনপি প্রথমে মাদারীপুর-১ আসনে শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দিয়েছিল। পরে মনোনয়ন না পেয়ে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর সমর্থকেরা অসন্তোষ প্রকাশ করলে তাঁর মনোনয়ন স্থগিত করা হয়। দ্বিতীয় দফায় জেলা বিএনপির সদস্য ও শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সম্প্রতি এই আসনের দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীসহ উপজেলা বিএনপির ১০ নেতাকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি।

এদিকে দল থেকে দুই বিদ্রোহী প্রার্থীকে বহিষ্কার করার পর তাঁরাও আওয়ামী লীগ নেতাদের সমর্থন নিয়েছেন। সম্প্রতি জাহাজ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার উঠান বৈঠকে শিবচর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ মোল্লা এবং শিবচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি তোতা খানকে আগের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন