[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জনগণ তাদের গুপ্ত নামে ডাকে, তারা রূপ পরিবর্তন করে: তারেক রহমান

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তারেক রহমান। আজ বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

জনগণের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার ও কথা বলার অধিকারের বিরুদ্ধে আবারও ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এই ষড়যন্ত্র যারা করছে, জনগণ তাদের একটি বিশেষ নামে চেনে। জনগণের পক্ষ থেকে তাদের নাম দেওয়া হয়েছে—গুপ্ত। তারা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বারবার নিজেদের রূপ বদলায়।’

বুধবার দুপুরে ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বেলা ২টা ৪০ মিনিটে আকাশযানে (হেলিকপ্টার) করে তারেক রহমান ফরিদপুর জেলা ক্রীড়াঙ্গন (স্টেডিয়াম) মাঠে নামেন। এরপর গাড়িতে করে ২টা ৫৫ মিনিটে তিনি জনসভার মঞ্চে ওঠেন। বেলা ৩টা ২১ মিনিটে বক্তব্য শুরু করে প্রায় ২৫ মিনিট তিনি কথা বলেন।

কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তারেক রহমান বলেন, ‘এদের কাছ থেকে আমরা ভালো কিছু আশা করতে পারি না। ১৯৭১ সালে তাদের বিতর্কিত ভূমিকার কারণে এ দেশের লাখ লাখ মা-বোনের সম্মানহানি হয়েছিল। এদের থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। এরা বলবে এক, আর করবে আরেক। নিজ দেশের মা-বোনদের প্রতি যাদের ন্যূনতম সম্মানবোধ নেই, তাদের কাছে আমরা নিরাপদ নই।’

গোপন কার্যক্রমের সমালোচনা করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা সংবাদপত্রে বিভিন্ন জায়গার খবর দেখছি—এই গুপ্তদের লোকজন বিশেষ করে মা-বোনদের কাছে গিয়ে মুঠোফোনে আর্থিক সেবার (বিকাশ) নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর চাইছে। তারা কেন মানুষের সাথে এমন অনৈতিক আচরণ করছে? অথচ তারা নাকি সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে। কাজটাই শুরু করেছে অনৈতিকভাবে, সেখানে জনগণ কীভাবে আশা করবে যে আপনারা সৎ লোকের শাসন দেবেন।’

ফরিদপুর বিভাগ গঠনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘নির্বাচনী জনসভায় আপনাদের সামনে এতটুকু বলতে চাই, ফরিদপুর বিভাগ গঠন করলে যদি সমস্যার সমাধান হয়, তবে বিএনপি সেটি করবে। আমরা শুনেছি চারদিকে নাকি অনেক উন্নয়ন হয়েছে, তাহলে আপনাদের প্রার্থীরা এত সমস্যার কথা বলল কেন? সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। দেশে জনগণের কাছে জবাবদিহি আছে এমন সরকার থাকলেই কেবল দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।’

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখে দেশের মানুষ ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করলে কী কী করা হবে, তার পরিকল্পনা আমরা করেছি। এই এলাকার একটি বড় সমস্যা নদীভাঙন। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলে নদীভাঙন ঠেকাতে পারলে বৃহত্তর ফরিদপুরের সেরা ফসল পাট বিদেশে পাঠিয়ে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারব। কৃষকদের সহযোগিতা করতে আমরা কৃষক কার্ড দেব। ফসল ফলাতে বীজ ও সার তাঁদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’

এই এলাকার অন্যতম সমস্যা হিসেবে বেকারত্বের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি এলাকায় ওই অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী কলকারখানা তৈরি করব, যাতে মানুষ সম্মানের সাথে বেঁচে থাকতে পারে। নারীদের পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে পারব না। এ জন্য নারীদের হাতে পরিবার কার্ড (ফ্যামিলি কার্ড) তুলে দেব। এর মাধ্যমে খেটে খাওয়া পরিবারের নারীরা কিছু সহায়তা পাবেন।’ এ ছাড়া তিনি পদ্মা বাঁধ (ব্যারাজ) নির্মাণ ও হাসপাতাল মেরামতের পাশাপাশি সারা দেশে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র (হেলথ কেয়ার) প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথা জানান।

জনসভায় তারেক রহমান ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের ১৫টি আসনের বিএনপির প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী। সঞ্চালনা করেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া।

সভায় ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর-৪ আসনের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী মিয়া মো. নুরুদ্দীন এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও ফরিদপুর-২ আসনের প্রার্থী শামা ওবায়েদসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন