[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক, অচলাবস্থা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ডাকা কর্মবিরতির তৃতীয় দিনে বন্দর ছিল অচল | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক-কর্মচারীরা এবার অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা তিনটায় বন্দর ভবনের পাশে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও ইব্রাহিম খোকন এ কর্মসূচির কথা জানান।

চট্টগ্রাম বন্দরে গত শনিবার থেকে টানা তিন দিন, প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছিল। এরপর মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু হয়। কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগেই আন্দোলনকারীরা অনির্দিষ্টকালের হরতালের ঘোষণা দেন, যা চলমান অচলাবস্থাকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

সংবাদ ব্রিফিংয়ে মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আমরা কর্মসূচি শিথিল করার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু ঢাকায় বিডা কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নেগোসিয়েশন কমিটিকে চাপ দিতে উপস্থিত হয়েছেন। এতদিন কনটেইনারের দর নিয়ে আলোচনা চলছিল, এখন রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়েও আলোচনা চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বন্দর লোকসানজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’

আরেক সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, ‘ঢাকায় আমাদের কর্মকর্তাদের আটকে রেখে জোর করে চুক্তিতে সই করানো হচ্ছে। এই অবস্থায় কর্মসূচি শিথিল করার কোনো সুযোগ নেই। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আন্দোলন অনির্দিষ্টকাল চলবে।’

কর্মবিরতির চতুর্থ দিনে চট্টগ্রাম বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে আন্দোলনকারীরা বন্দরের মূল জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়ার কাজ বন্ধ করে দেন। এর ফলে আজ মূল জেটিতে ছয়টি জাহাজ আনা-নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে পতেঙ্গার আরএসজিটি টার্মিনাল ও দুটি বিশেষায়িত জেটিতে তিনটি জাহাজ আনা-নেওয়া হয়েছে।

এতদিন কর্মবিরতির কারণে জাহাজ থেকে কনটেইনার ও পণ্য ওঠানো-নামানো এবং খালাসের কাজ বন্ধ থাকলেও জাহাজ আনা-নেওয়ায় বাধা ছিল না। আজ প্রথমবারের মতো সেই কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বন্দরের অচলাবস্থা আরও জোরালো হয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা জানান, জেটিতে জাহাজ আনা-নেওয়ার কাজ করেন পাইলটরা। এ জন্য টাগবোটসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক নৌযানের দরকার হয়, যা ডক অফিস থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

বন্দর সূত্রে বলা হয়েছে, সকাল ১০টার দিকে ডক অফিসে আন্দোলন শুরু করেন শ্রমিক-কর্মচারীরা। তারা অফিস থেকে কর্মীদের বের করে দিয়ে বাইরে তালা ঝুলিয়ে দেন। ফলে পাইলটদের আনা-নেওয়ার জন্য কোনো নৌযান ছাড়ানো সম্ভব হয়নি।

সকাল ১০টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত জোয়ারের সময়ে জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে ছয়টি জাহাজ আনা-নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আন্দোলনের কারণে নির্ধারিত কোনো জাহাজই আনা-নেওয়া করা যায়নি। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন