মুদ্রানীতিনির্ভর কৌশলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কতটা সাফল্য মিলল?
| মূল্যস্ফীতি | প্রতীকী ছবি |
আঁটসাঁট মুদ্রানীতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণের সুদহার বাড়িয়ে টানা কয়েক বছর ধরে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ কমানোর যে চেষ্টা করা হচ্ছিল, তা এক পর্যায়ে এসে থমকে গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে না নামা পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ধারা অব্যাহত রাখা হবে। কিন্তু দেড় বছরের চেষ্টার পরও মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের নিচে নামাতে না পারায় বিষয়টি এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
এই পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি কেন আরও কমছে না, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সর্বশেষ সভায়।
নীতি সুদহার আর না বাড়িয়ে ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বলা হচ্ছিল, অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের জন্য এই মুদ্রানীতি বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হতে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি।
অর্থনীতির বিশ্বস্বীকৃত তত্ত্ব অনুযায়ী, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে নীতিসুদ হার বাড়িয়ে ঋণের খরচ বাড়ানো হয়।
এর ফলে ব্যক্তি ও উদ্যোক্তাদের হাতে অর্থের প্রবাহ কমে যায়। এতে বিলাসী ও অপ্রয়োজনীয় খাতে ভোক্তা ব্যয় কমলে মূল্যস্ফীতির হার ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকও এই কৌশল নিয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির হার দুই অঙ্কের ঘর থেকে নেমে এলেও গত দেড় বছরে তা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
গভর্নর ঘোষণা দিয়েছেন, মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশে না নামা পর্যন্ত মুদ্রানীতির সংকোচনমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে।
তবে এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার কমেছে। একইভাবে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনীতির তত্ত্বগুলো তখনই কার্যকর হয়, যখন অর্থনীতির সব সূচক স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতি গত এক থেকে দেড় দশক ধরে ‘স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল না’।
ব্যাংক ব্যবস্থা ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের টাকা পাচারের মতো ঘটনা অন্য কোনো দেশের অর্থনীতিতে ঘটেনি মন্তব্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘তাই মুদ্রানীতিও পুরোপুরিভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম না।’
তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি দুই দিক থেকে হয়। একদিকে সরবরাহজনিত কারণে কোনো কারণে পণ্য কমে গেলে, অন্যদিকে হঠাৎ পণ্যের চাহিদা বেড়ে গেলেও মূল্যস্ফীতি হয়।’
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, পণ্যের যোগান কম হলে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ান। আবার কোনো কারণে ব্যবসায়ীরা যদি মনে করেন যে চাহিদা বাড়তে পারে, তাহলেও পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উচ্চ সুদহারের কৌশল মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আর কার্যকর না হওয়ায় কয়েকজন পরিচালকের আপত্তিতে বিষয়টি আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুধু মুদ্রানীতিনির্ভর কৌশলের ওপর ভর করায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।
তার মতে, মূল্যস্ফীতি কমানোর পরবর্তী ধাপে যেতে হলে মুদ্রানীতির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে এবং অর্থনীতির আগাম বার্তা বুঝে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে সুদের হার বেশি রাখলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধিও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন অর্থনীতির অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন।
ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমতে শুরু করলে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে উঠে যায়। আগের মাস অগাস্টেও এই হার ছিল ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ২০২২ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিসুদ হার বাড়াতে শুরু করে। নানা ধরনের চেষ্টা চালানো হলেও ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশে পৌঁছায়।
ওই মাস থেকে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলন পরের মাসে সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেয়। ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরোপুরি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি কার্যকর করা হয়। এতে ২০২৪ সালের অগাস্টে মূল্যস্ফীতির হার কমে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়ায়।
ধাপে ধাপে আরও কমে ২০২৫ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নেমে আসে। তবে এরপর টানা দুই মাস বেড়ে ডিসেম্বরে তা ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশে পৌঁছায়।
এদিকে মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিগত সুদহার, বা পলিসি রেপো রেট, ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করেছে।
সবশেষ মুদ্রানীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসএলএফ রেট সাড়ে ১১ শতাংশ এবং এসডিএফ ৮ শতাংশ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, আইএমএফ, পরামর্শ দিয়েছে, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত নীতিসুদ হার যেন কমানো না হয়।
এই কারণে আগামী ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতিতে ওই সুদহারে স্থির থাকার পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২৪ সালের শেষ দিক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির পথেই রয়েছে।
‘সাধারণ পরিস্থিতিতে সামগ্রিক চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যায় না। বন্যা বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। মূল সমস্যা তৈরি হয় সরবরাহের দিক থেকে। এই জায়গাটিতে সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া দরকার।’
বাজার কাঠামো তদারকি করে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তেলাপিয়া, কার্পজাতীয় মাছ, পাঙ্গাস ও ডিমের দাম গত কয়েক মাস ধরে প্রায় একই জায়গায় আছে। এখানে মূল্যস্ফীতি নেই। ডিমের দাম একসময় বেড়েছিল, আবার এখন ১১০ টাকা ডজনে নেমে এসেছে। কারণ, সরবরাহ ভালো। চাষাবাদ বেশি হওয়ায় কেউ দাম বাড়ানোর সাহস পাচ্ছে না।’
কিন্তু ইলিশ উৎপাদনে তেমন খরচ নেই, খরচ যা হয়, তা মূলত সংগ্রহ পর্যায়ে। তারপরও ইলিশের দাম কেন এত বেশি, সে প্রসঙ্গও তোলেন অধ্যাপক হেলাল।
তিনি বলেন, ‘মাছ কি ধরা পড়ছে না, না কি কেউ বেশি দিন মজুত করে রাখছে—এটা সরকারকে খুঁজে বের করতে হবে। মাছের সরবরাহ বেশি থাকলে কোনোভাবেই দাম বাড়বে না। বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে হঠাৎ করে একেকটি পণ্যের দাম একেক সময়ে বেড়ে যাচ্ছে। দেশীয় ও আমদানি—দুই পর্যায়েই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছে। এই কারণে আমদানির পথ সব সময় খোলা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনোমিস্ট জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যদি জানতে পারেন বা বুঝতে পারেন যে পণ্যের ঘাটতি হতে পারে, তাহলেই দাম বেড়ে যায়। এটা সহজে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। আমাদের দেশে সাধারণত সমস্যা হওয়ার পর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কেন? আগেই তো ব্যবস্থা নেওয়া যেত। দাম বেড়ে গেলে তা কমতে অনেক সময় লাগে। এর মধ্যে একটি শ্রেণি ব্যবসা করে নেয়। তাদের থামাতে হলে আগাম পদক্ষেপ নিয়ে পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে হবে।
আমদানি নির্ভর দেশ হওয়ায় দেশীয় পণ্য উৎপাদনেও কৃষি খাতের কীটনাশক ও সারসহ অনেক কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। ফলে ডলারের দামের ওঠানামা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে।
জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি দেখেছি, ডলারের দাম এক টাকা বাড়লে পণ্যের দাম কমপক্ষে ৫০ পয়সা বাড়ে। কিন্তু ডলারের দর কমলে বা শুল্ক তুলে নেওয়ার পর এক টাকা খরচ কমলেও মূল্যস্ফীতি বা পণ্যের দাম ১০ থেকে ২০ পয়সার বেশি কমে না। যেখান থেকে মূল্যস্ফীতি শুরু হয়, কমে যাওয়ার পর পণ্যের দাম সেই আগের জায়গায় আর ফিরে আসে না, সে কথাও তিনি বলেন। এখানেই বাজার কাঠামো ঠিকভাবে কাজ করছে না। কারণ ব্যবসায়ীরা বলেন, তাদের অন্যান্য খরচ তো কমেনি। ঋণের সুদহার একই আছে। চাঁদাবাজি, যাকে অর্থনীতিতে আন–অফিসিয়াল খরচ বলা হয়, তাও তো রয়ে গেছে। এখন খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের হয়তো মুনাফা বাড়বে মূল্যস্ফীতি কমলে, কিন্তু সামগ্রিকভাবে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির সুফল পাওয়া যাবে না। কারণ এই অতিরিক্ত (চাঁদা) খরচ তো কমছে না।’
বাজার কাঠামো ঠিক রাখতে আগাম পূর্বাভাস দিয়ে পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে মুদ্রানীতি কার্যকর হবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ।
ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকটের পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার সংকট তৈরি হলে আমদানি বিল পরিশোধে বিপাকে পড়ে যায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার।
এই সংকট কাটাতে ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, আইএমএফের সঙ্গে ঋণ চুক্তি হয়। ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের প্রথম কিস্তি হাতে পায় বাংলাদেশ।
গত ১০–১৫ বছরে অর্থনীতি থেকে যে বিপুল অঙ্কের টাকা পাচার হয়েছে, তাতে দু–এক বছরে সমস্যার সমাধান হবে না মন্তব্য করে অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘এখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আপাতত নীতিসুদ হার যে ভূমিকা রাখছে, সেটার মাধ্যমেই মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে হবে। অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা এক দিনে তৈরি হয়নি, পুরো ব্যবস্থা ঠিক করতে ৫–৭ বছর সময় দিতে হবে।’
তবে দীর্ঘ সময় ধরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি চালু থাকলে কর্মসংস্থান ও জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘একটি পর্যায়ে গিয়ে আমাদের বিনিয়োগ বাড়াতে হবে, কিছুটা উদার হতে হবে। তা না হলে অর্থনীতি এক ধরনের স্থবির অবস্থায় পড়ে যাবে।’
বেসরকারি বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি কমতে কমতে গত নভেম্বরে ৬ দশমিক ৫৮ শতাংশে নেমে আসে। আগের বছরের নভেম্বরে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে যাওয়ায় পণ্য উৎপাদন ও মজুরি বৃদ্ধির হারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামীতে নির্বাচিত সরকার এসে কোন খাতে অগ্রাধিকার দেয়, তা দেখে হয়তো বাংলাদেশ ব্যাংককে মুদ্রানীতি সংশোধন করতে হবে।’
অন্যদিকে, মুদ্রানীতি এখনই উদার করলে ‘আরও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে’ মন্তব্য করে জাহিদ হোসেন বলেন, ‘নীতিসুদ হার কমানো হলে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে গিয়ে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে। তাই আপাতত মূল্যস্ফীতি একই জায়গায় রাখতে নীতিসুদ হার না কমিয়ে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।’
বাজারে ঋণের চাহিদাও খুব বেশি নেই—এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের জন্য শুধু সুদহারই দায়ী নয়। এর সঙ্গে পরিবেশ, জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও চাহিদাসহ আরও অনেক বিষয় জড়িত।
‘সুদহার কমিয়ে একসময় অনেক টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল। সেই সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে এখন ঋণের প্রবৃদ্ধি কম। কারণ বর্তমানে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি টাকা কেউ নিচ্ছে না।’
বর্তমানে ঋণ চাহিদা বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘টাকার প্রয়োজন যদি সত্যিই বেশি হতো, তাহলে ডলারের দাম আরও বেড়ে যেত। কিন্তু বিনিময় হার এখন একটি জায়গায় এসে স্থিতিশীল রয়েছে। নির্বাচনের পর হয়তো বিনিয়োগে আরও কিছুটা গতি আসতে পারে। তখন অর্থের প্রবাহ বাড়বে।’
বিআইডিএস, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে মুদ্রানীতি কার্যকর করতে হলে অর্থনীতিকে পুরোপুরি সচল করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক সরকারের স্থিতিশীলতা সরকারি নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে পারে। এখন অর্থনীতি যেহেতু একটি বিশেষ অবস্থায় রয়েছে, তাই বিশেষ সময়ের জন্য বিশেষ সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
‘রাজনৈতিক দল দায়িত্ব নিলে অর্থনীতির সংস্কার কার্যক্রম আরও গতি পাবে। তখন অর্থনীতিও পুরো মাত্রায় সচল হবে, ঋণের চাপ বাড়লে সুদহার কমে যাবে এবং মুদ্রানীতি কার্যকর হবে।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে একই সঙ্গে বাজার কাঠামোকে শক্ত অবস্থানে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন মুজেরি।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম জাহীদবলেন, ‘শুধু চাহিদা কমিয়ে অর্থনীতির কোনো সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে সুফল আনে না। এখন বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতিতে চলছে।
‘ঋণের চাহিদা না থাকলে সুদহার কমিয়েও লাভ হবে না। অনেকে ঋণ নিয়ে উৎপাদনে যাননি, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। এখন রাজনৈতিক দলের সরকার এসে যদি অর্থনীতির চাকা একটি সমঝোতার মাধ্যমে সচল রাখতে পারে, তাহলে অর্থনীতির অসামঞ্জস্যগুলো সমাধান হবে।’
Comments
Comments