[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সরকারের শেষ সময়ে র‍্যাবের জন্য ১৬৩টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত

প্রকাশঃ
অ+ অ-
 র‍্যাবের গাড়ি  | ফাইল ছবি  

র‍্যাবের অভিযান সক্ষমতা বাড়াতে দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১৬৩টি গাড়ি কেনা হচ্ছে। তিন ধরনের এসব গাড়ির মধ্যে থাকছে ৩টি জিপ, ১০০টি টহল পিকআপ এবং ৬০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস। অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন পেয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বৈঠক শেষে এই অনুমোদনের কথা জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব গাড়ি কেনা সম্ভব কি না, জানতে চাইলে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘তা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। কারণ, গাড়ি কেনার আগে অনেক ধাপ আছে। সেগুলো এই সময়ের মধ্যে শেষ করা যাবে না।’

অন্তর্বর্তী সরকার র‍্যাবকে বিলুপ্ত না করে আরও বৈধতা দিচ্ছে, সক্ষমতা বাড়াতে গাড়ি কিনছে, এটা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।...সরকার কি স্বার্থান্বেষী মহলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এটি করছে?

— ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, টিআইবি

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, র‍্যাব, এর কর্মকাণ্ড নিয়ে দেশে ও বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অবসান ঘটাতে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তারা এই সুপারিশ করে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে। নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন মহলও র‍্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে এই বাহিনীর বিলুপ্তি দাবি করেছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, টিআইবি, এর নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, র‍্যাবের বিলুপ্তি এখন জাতীয় দাবি। গুম কমিশনও র‍্যাবকে বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় এই বাহিনীর ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।

এমন কোনো অপরাধ নেই যেখানে র‍্যাব জড়িত নয়। জাতিসংঘের প্রতিবেদনেও র‍্যাবকে বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছিল। সব জেনেও অন্তর্বর্তী সরকার র‍্যাবকে বিলুপ্ত না করে আরও বৈধতা দিচ্ছে, সক্ষমতা বাড়াতে গাড়ি কিনছে, যা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

কোন যুক্তিতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে। সব প্রতিবেদনকে কেন অবজ্ঞা করা হচ্ছে, সে প্রশ্নের উত্তরও দিতে হবে। সরকারের সময় প্রায় শেষ। এখন কেন র‍্যাবের জন্য গাড়ি কিনতে হচ্ছে, সে বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে। তাহলে কি সরকার স্বার্থান্বেষী মহলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এটি করছে?

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট থেকে র‍্যাবের জন্য গাড়ি কেনার খরচ বহন করা হবে। ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় এসব গাড়ি কেনা হচ্ছে। উন্মুক্ত পদ্ধতির কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে কেনার। এ জন্য অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির নীতিগত অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ধাপে বিষয়টি যাবে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটিতে।

এই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছিল ২০১৮ সালে। তখন ব্যয় ধরা ছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরে ব্যয় কমিয়ে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৬ সাল পর্যন্ত, সংশোধিত ব্যয় দাঁড়ায় ৮২৭ কোটি টাকা। প্রকল্পের আওতায় মোট ১ হাজার ৫৭০টি যানবাহন ও ১৩১টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্য থাকলেও ইতিমধ্যে কেনা হয়েছে ৮০৯টি যানবাহন ও ১০১টি সরঞ্জাম।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি জিপের ইঞ্জিন ক্ষমতা ২ হাজার ৫০০ সিসি। একেকটির বাজারমূল্য দেড় কোটি টাকার মতো। পেট্রল জিপের বাজারমূল্য ৬৪ লাখ টাকা এবং মাইক্রোবাসের ৪৮ লাখ টাকা। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন