হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যানার খোলা-হয়রানির অভিযোগ
![]() |
| দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়ন নির্বাচন কার্যালয়ে জিওপি প্রার্থী জসীম উদ্দিনের পক্ষে তাঁর সমর্থকেরা সংবাদ সম্মেলন করে। বুধবার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ব্যানার খুলে ফেলা ও পরিকল্পিতভাবে হয়রানির অভিযোগ তুলেছে গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি)।
বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়ন নির্বাচন কার্যালয়ে জিওপি প্রার্থী জসীম উদ্দিনের পক্ষে তাঁর সমর্থকেরা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ সাইফুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে যুব অধিকার পরিষদ কুমিল্লা উত্তর জেলার প্রধান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী জসীম উদ্দিনের নির্বাচনের প্রস্তাবকারী রাসেল হোসেন বেগ বক্তব্য দেন। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কাজ করার সময় তাঁরা হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকদের বাধার মুখে পড়ছেন।
রাসেল হোসেন বেগ বলেন, ‘প্রার্থী জসীম উদ্দিনের নিজ গ্রাম এলাহাবাদের উচ্চবিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে ট্রাক প্রতীকের একটি ব্যানার ছিল। এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর সমর্থকেরা সেই ব্যানার খুলে সেখানে শাপলা প্রতীকের একটি বড় বিজ্ঞাপনী বোর্ড (বিলবোর্ড) বসিয়েছেন। আমাদের প্রচারের মাইকবাহী গাড়ি আসার পথেই ব্যানারটি খোলা হয়। প্রতিবাদ করলে আমাদের হুমকি দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া মঙ্গলবার এলাহাবাদ থেকে জাফরগঞ্জ সড়কের পাঁচটি ব্যানার খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েও এসব ঘটনায় কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।’
রাসেল হোসেন বেগ আরও বলেন, ‘হাসনাত আবদুল্লাহর নিজ ইউনিয়ন খাইয়ার গ্রামে একটি ব্যানার পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। ব্যানারটিতে আগুন দেওয়ার দুই মিনিটের মধ্যে ভিডিও করা হয়েছে, কিন্তু যারা আগুন দিচ্ছিল তাদের ভিডিও করা হয়নি। আমাদের সন্দেহ, এই ঘটনাগুলো পরিকল্পিত। হারসসার গ্রামেও একইভাবে প্রার্থীর ব্যানার পুড়িয়ে ভিডিও করা হয়েছে। এসব ঘটনার মাধ্যমে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। এমনকি প্রশাসনের কাছে তালিকা দিয়েও হয়রানি করার অভিযোগ করেন তিনি।’
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। প্রথমে বাছাইয়ে তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হলেও পরে হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন তাঁর প্রার্থিতা বাতিল করে। ঋণখেলাপির তথ্য গোপনের অভিযোগে বাতিল হওয়া প্রার্থিতা ফিরে পেতে আদালতে আবেদন করলেও তিনি তা ফিরে পাননি।

Comments
Comments