ক্ষমতায় এলে চোরদের পেট থেকে টাকা বের করে আনা হবে: জামায়াতের আমির
![]() |
| কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। আজ বুধবার দুপুরে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ক্ষমতায় এলে দুর্নীতিবাজদের মুখ দিয়ে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে আনা হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বুধবার সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কুড়িগ্রামের প্রধান সমস্যা হিসেবে নদীভাঙনের কথা উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এই কুড়িগ্রাম জেলার দুঃখ হলো প্রধান তিনটি নদী। বর্ষা এলেই নদীপাড়ের মানুষের দুশ্চিন্তা শুরু হয়, কখন কার ঘরবাড়ি ভেসে যায়। এই নদীগুলোকে দিনের পর দিন একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী শেষ করে দিয়েছে। নদীগুলোকে কঙ্কাল বানানো হয়েছে। নদীভাঙন ঠেকাতে যত বরাদ্দ হয়েছে, তার সবই ওই গোষ্ঠীর পেটে গেছে। আমরা ক্ষমতায় আসলে ওই চোরদের মুখে হাত ঢুকিয়ে পেট থেকে সব টাকা বের করে নিয়ে আসব।’
সকালে ঢাকা থেকে আকাশযানে (হেলিকপ্টার) কুড়িগ্রাম জেলা ক্রীড়াঙ্গনে (স্টেডিয়াম) পৌঁছান জামায়াতের আমির। সেখান থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় গাড়িবহর নিয়ে তিনি জনসভাস্থলে যান। জেলা জামায়াতের আমির মো. আজিজুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সমাবেশে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর জয় চাই না, আমরা চাই এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের জয়। যে তিস্তাপাড় থেকে ২০২৪ সালের মুক্তির লড়াই শুরু হয়েছিল, সেই তিস্তাপারের জেলা কুড়িগ্রাম বাংলাদেশের সব থেকে অবহেলিত ও অভাবী এলাকা। চব্বিশের গণমুক্তির এই আন্দোলনকে ধারণ করে তিস্তাপারের এই উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এখানে সবাই কাজ পাবে, কেউ বেকার থাকবে না। প্রকৃত বিজয় তখনই আসবে।’
সীমান্তে হত্যা নিয়ে জামায়াতের আমির বলেন, ‘অতীতে সীমান্তে আমাদের দেশের মানুষকে পাখির মতো গুলি করে মারা হয়েছে, কোনো বিচার পাইনি। আমি ফেলানীর বাড়িতে গিয়েছিলাম। তার মা-বাবার চোখে পানি নয়, রক্ত দেখে এসেছি। আমরা ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের প্রতিবেশী বন্ধু থাকবে, কিন্তু আমরা কাউকে প্রভু হিসেবে মানব না। কোনো আধিপত্যের কাছে মাথা নত করব না। আমরা ক্ষমতায় গেলে আর কোনো ফেলানীকে কাঁটাতারে ঝুলে থাকতে হবে না।’
নারী শ্রমিকদের প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে বিশেষ করে মায়েদের প্রতি বৈষম্য ও অসম্মান করা হয়। সমান কাজ করার পরও নারী শ্রমিকেরা অনেক সময় কম মজুরি পান। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কর্মস্থল থেকে আবাসস্থল পর্যন্ত নারীরা পুরোপুরি নিরাপত্তা ও সম্মান পাবেন।’
জনসভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী আতিকুর রহমান, কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াত প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী ও কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াত প্রার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে সভায় বক্তব্য দেন।

Comments
Comments