[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

পাকিস্তান থেকে ট্রেন-মালবাহী বগি কিনতে আগ্রহী বাংলাদেশ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক | গ্রাফিকস: পদ্মা ট্রিবিউন 

অন্যান্য দেশের তুলনায় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য দেওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর পাকিস্তান থেকে মালবাহী বগি (ওয়াগন) ও যাত্রীবাহী কোচ কেনার বিষয়ে বাংলাদেশ আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ইসলামাবাদে পাকিস্তান রেলওয়ের (পিআর) বগি তৈরির কারখানা ও লাহোরের মোগলপুরা মেরামত কারখানা (ওয়ার্কশপ) পরিদর্শন করেছেন। সেখানে তাঁরা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন এবং রেলের সরঞ্জাম তৈরির প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন।

লাহোরভিত্তিক পাকিস্তান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কনস্যুলার বিষয়ক সচিব এবং ডি-৮-এর মনোনীত কমিশনার ফরহাদ ইসলাম এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন খান গত শুক্রবার মোগলপুরা কারখানা পরিদর্শন করেন।

পাকিস্তান রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ ও ওয়াগন) মুহাম্মদ নাসির খলিলি প্রতিনিধিদলটিকে কারখানার সামগ্রিক কার্যক্রম, কারিগরি সক্ষমতা ও চলমান প্রকল্পগুলো সম্পর্কে জানান। এ সময় অতিথিদের সামনে কারখানার পরিচালনা ও কর্মদক্ষতা তুলে ধরে একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্রও দেখানো হয়।

নাসির খলিলি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে মিল আছে। দুই দেশের মধ্যে বিশেষ করে রেল খাতে সহযোগিতার বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।

এরপর প্রতিনিধিদলটিকে মোগলপুরা ইঞ্জিন মেরামত কারখানা ঘুরিয়ে দেখানো হয়। সেখানে তাঁদের রেল ইঞ্জিনের রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার ও তৈরির বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। বাংলাদেশি কূটনীতিকরা এই সফরকে অত্যন্ত তথ্যবহুল ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। সেই সঙ্গে তাঁরা পাকিস্তান রেলওয়ের কারিগরি দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন।

অন্যদিকে পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাসি দুই দেশের মধ্যে রেল খাতে সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের অংশীদারিত্ব দুদেশের জন্যই উল্লেখযোগ্য সুফল বয়ে আনতে পারে।

পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী জানান, পাকিস্তান রেলওয়ে বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলি ও আর্জেন্টিনার মতো চওড়া রেলপথের (ব্রডগেজ রেল নেটওয়ার্ক) দেশগুলোতে কোচ ও বগি সরবরাহ করছে। তিনি বলেন, 'এটি প্রমাণ করে, কোচ ও বগি তৈরির ক্ষেত্রে আমরা আধুনিক ও নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন করেছি।'

খলিলি আরও জানান, সহযোগিতার পরবর্তী ধাপ হিসেবে বাংলাদেশের রেল বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত কারিগরি মূল্যায়নের জন্য পাকিস্তান সফর করবেন।

উল্লেখ্য, ১৯৮০-র দশকে পাকিস্তান রেলওয়ে বাংলাদেশে রেলের সরঞ্জাম রপ্তানি করেছিল। এ ছাড়া তারা ১৯৯৯, ২০০০ ও ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কাকেও মালবাহী বগি সরবরাহ করেছে।

বর্তমান আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের তুলনায় বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তান উপযুক্ত ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে সামনে আসছে। ডন-এর সঙ্গে আলাপকালে নাসির খলিলি বলেন, 'বাংলাদেশ মালবাহী বগি ও কোচ সরবরাহের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করছিল। কিন্তু এখন ঢাকা আমাদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছে।' প্রতিনিধিদলটি কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদের কারখানা পরিদর্শন করেছে বলেও তিনি জানান।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন