[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

কক্সবাজারের ৪ আসনেই বিএনপির জয়, একটিতে ব্যবধান সামান্য

প্রকাশঃ
অ+ অ-
সালাহউদ্দিন আহমদ, শাহজাহান চৌধুরী, লুৎফুর রহমান কাজল, আলমগীর মো. মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ | ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে কক্সবাজার–৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী ১ হাজার ৫৪৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ভোরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান চারটি আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া)
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি ৯৫ হাজার ৮৪০ ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। তার প্রাপ্ত ভোট ২ লাখ ২০ হাজার ৫৬৬। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭২৬ ভোট।

ফল ঘোষণার পর ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছি, আমি অনেক সৌভাগ্যবান। মহান আল্লাহ আমাকে কখনো পরাজয়ের মুখ দেখাননি। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আমি বিজয়ের সঙ্গেই প্রত্যাবর্তন করেছি। এই কৃতজ্ঞতা শেষ দিন পর্যন্ত থাকবে।’

স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে আওয়ামী লীগ দুইবার, বিএনপি পাঁচবার, জাতীয় পার্টি তিনবার, জামায়াতে ইসলাম একবার এবং কল্যাণ পার্টির প্রার্থী একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ দুইবার ও তাঁর স্ত্রী হাসিনা আহমদ একবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আসনটিতে এবার জামায়াত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের প্রচারণা যতই তীব্র হোক না কেন, দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তার কারণে বিএনপির প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদের জয় অনেক ভোটারের কাছে নিশ্চিত ছিল।

কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া)
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৬৬০ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামের হামিদুর রহমান আযাদ পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৮১৭ ভোট।

মহেশখালী ও কুতুবদিয়া নিয়ে গঠিত এই আসনে হামিদুর রহমানের বাড়ি কুতুবদিয়ায়, আর আলমগীর ফরিদের বাড়ি মহেশখালীর। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটিতে হামিদুর রহমান জয়ী হয়েছিলেন। আলমগীর ফরিদও এই আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আলমগীর ফরিদ বলেন, ‘নানা ক্ষেত্রে জেলার দুই সাগরদ্বীপ মহেশখালী-কুতুবদিয়া অবহেলিত। দুই উপজেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে আমি কাজ করব।’

বিএনপির নেতারা জানান, এবারের নির্বাচনে আলমগীর ফরিদের জয় নিয়ে স্থানীয় নেতারা উদ্বিগ্ন ছিলেন। মহেশখালীতে বিএনপি দ্বিধাবিভক্ত ছিল। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর ছিদ্দিকের সঙ্গে আলমগীর ফরিদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। তবে নির্বাচনের আগে সালাহউদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপে দুই নেতা এক মঞ্চে আসায় জয় সহজ হয়েছে।

বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, মহেশখালীতে ধানের শীষ পেয়েছে ৯৫ হাজার ২৫৯ ভোট, দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৫৪ হাজার ৫৬৯ ভোট। কুতুবদিয়াতে দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৩৫ হাজার ২৪৮ ভোট, আর ধানের শীষ পেয়েছে ২৯ হাজার ৪০১ ভোট।

কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও)
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী লুৎফুর রহমান কাজল বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামের শহিদুল আলম বাহাদুর।

বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, লুৎফুর রহমান কাজল পেয়েছেন ১ লাখ ৮১ হাজার ৪৬০ ভোট। শহিদুল আলম বাহাদুর পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৯৯৪ ভোট। ভোটের ব্যবধান ২৮ হাজার ৪৬৬।

কাজল স্থানীয়ভাবে সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। তাই তাঁর জয়ের বিষয়ে দল আশাবাদী ছিল। শহিদুল আলম বাহাদুর কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান এবং কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি হিসেবে পরিচিত। এলাকায় তাকে ‘ভিপি বাহাদুর’ নামে বেশি চিনেন।

জয়ের পর লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, ‘জামায়াত প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর এক বছর ধরে ভোটারের সঙ্গে ছিলেন এবং অনেক পরিশ্রম করেছেন। ফলাফলও ভালো হয়েছে। আমরা মিলেমিশে কক্সবাজারের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। ধানের শীষকে বিজয়ী করায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

চট্টগ্রাম-৪ (উখিয়া-টেকনাফ)
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা শাখার সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৫৮২ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নুর আহমদ আনোয়ারী পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৩৩ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ১ হাজার ৫৪৯।

এই আসনটি জেলায় ‘ভাগ্য আসন’ হিসেবে পরিচিত। অতীতে যে দলের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন, সেই দলই সরকার গঠন করেছে। শাহজাহান চৌধুরী চারবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন এবং জাতীয় সংসদের হুইপও ছিলেন। এবার পঞ্চমবারের মতো তিনি জয়ী হয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সব ভেদাভেদ ভুলে এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান।

জামায়াতের প্রার্থী নুর আহমদ আনোয়ারী টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ২০০৩ সাল থেকে ২২ বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি হ্নীলার একটি ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবেও ছিলেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি উখিয়া-টেকনাফবাসীর উদ্দেশে লিখেছেন, ‘আমাকে ৯২৯ ভোটে পরাজিত দেখিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। এই ফলাফলে অনেক অসংগতি রয়েছে। আমরা বিস্তারিত পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব ইনশা আল্লাহ।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন