শুরু হলো অমর একুশে বইমেলা, চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত
![]() |
| শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখছেন বইপ্রেমীরা। গতকাল রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
নানা অনিশ্চয়তা কাটিয়ে মহান ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে এসে শুরু হলো অমর একুশে বইমেলা। মেলার ঐতিহ্য মেনে নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃহস্পতিবার বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর বিকেলে সবার জন্য মেলার প্রবেশপথ খুলে দেওয়া হয়। এবারের বইমেলার মূল ভাবনা বা প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।
বাংলা একাডেমির আয়োজনে সাধারণত ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকে মাসব্যাপী এই মেলা চলে। তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় মেলার সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। কয়েক দফায় তারিখ পরিবর্তনের পর ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে মেলা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ায় মেলা কতটুকু সফল হবে, তা নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়। বড় প্রকাশকেরা মেলা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেও শেষ পর্যন্ত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমির সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। স্টল বরাদ্দের টাকা সম্পূর্ণ মওকুফ করার সিদ্ধান্তে প্রকাশকেরা মেলায় ফিরতে রাজি হন। দীর্ঘ এই টানাপোড়েন শেষে শুরু হলো ১৮ দিনের অমর একুশে বইমেলা। মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত।
রমজানের কারণে এবার মেলার সময় কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে। প্রতিদিন দুপুর ২টায় মেলার প্রবেশপথ খুলবে এবং বিরতিহীনভাবে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে। শুক্র ও শনিবারসহ ছুটির দিনগুলোতে থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। এসব দিনে মেলা সকাল ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুদের জন্য বিশেষ সময় হিসেবে থাকবে। এরপর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য খোলা থাকবে। দর্শনার্থীরা রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। শুক্রবার মেলার প্রথম শিশুপ্রহর।
বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবার মেলায় ৫৪৯টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে, যা গতবার ছিল ৭০৮টি। একাডেমি প্রাঙ্গণে সরকারি ও বেসরকারি গবেষণা এবং উন্নয়নমূলক ৮১টি প্রতিষ্ঠানের স্টল রয়েছে। অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বরে ৪৬৮টি সৃজনশীল প্রকাশনী অংশ নিয়েছে।
মেলার প্রথম দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে দেখা যায়, হাতেগোনা কিছু স্টল ছাড়া অধিকাংশ স্টলেই এখনো সাজসজ্জার কাজ চলছে। মেলার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় প্রকাশকেরা আগে থেকে স্টল তৈরির কাজ শুরু করতে পারেননি। এছাড়া মেলার অনেক জায়গায় এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছায়নি। বাতিঘর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক সঞ্জয় সূত্রধর জানান, তাঁদের সারির স্টলগুলোতে বিদ্যুৎ নেই, বিষয়টি তাঁরা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
তবে জলাধারের সামনে কথাপ্রকাশের স্টলে বই সাজানোর কাজ শেষ হয়েছে। স্টল ব্যবস্থাপক জাফিরুল ইসলাম জানান, প্রথম দিন থেকেই পাঠকদের জন্য নতুন বই রাখা হয়েছে। সেখানে বই কিনতে আসা দুই ভাই ভাস্কর খাসনবিশ ও দিবাকর খাসনবিশ জানান, প্রথম দিনের নিরিবিলি পরিবেশ তাঁদের ভালো লাগছে, যদিও অনেক স্টলে কাজ এখনো বাকি।
প্রথমা প্রকাশনের স্টল এবার মেলার উত্তর দিকে। সেখানে বই সাজানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। উপব্যবস্থাপক কাউসার আহম্মেদ জানান, প্রথম দিনেই তাঁদের স্টলে নতুন বই এসেছে এবং আনিসুর রহমানের গল্পগ্রন্থ ‘সিসিফাস শ্রম’ বিক্রিও হয়েছে। এবারের মেলায় তাঁরা আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই আনবেন বলে জানিয়েছেন।

Comments
Comments