প্রধানমন্ত্রীর সচিবসহ তিন সচিবকে সরিয়ে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত
![]() |
| প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন | ছবি: সংগৃহীত |
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ (সদ্য সাবেক প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন) তিন সচিবকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা তিন সচিব হলেন— প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় গুরুত্বপূর্ণ এই পদগুলোতে পরিবর্তন আনা হলো। এর আগে নতুন সরকার গঠনের আগের তিন দিনে প্রশাসনের শীর্ষ পদের দুই কর্মকর্তা নিজে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা হলেন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আবদুর রশীদ এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। এরপর চুক্তিতে থাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনিকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তারকে। তিনি আগে বিএনপির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রশাসনে আরও কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ খালি হওয়া চারটি সচিব পদে যেমন নিয়োগ হবে, তেমনি চুক্তিতে থাকা কয়েকজন সচিবের পদেও রদবদল হতে পারে। এ ছাড়া মাঠ প্রশাসনের জেলা প্রশাসকসহ (ডিসি) গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদ এবং পুলিশসহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বর্তমানে নানা আলোচনা চলছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেই সময় প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছিল। প্রথম ছয় মাসেই সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় এবং অনেককে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল। বর্তমানে সচিব ও সমপর্যায়ের অন্তত ১৬ জন কর্মকর্তা চুক্তিতে নিয়োজিত আছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, নতুন সরকার এসে প্রশাসনে পরিবর্তন আনা স্বাভাবিক বিষয়। তবে তাঁদের প্রত্যাশা, নতুন সরকার অতীতের মতো দলীয়করণ করবে না এবং অযোগ্যদের নিয়োগ দেওয়া হবে না। কোনো কর্মকর্তা যেন ‘প্রতিহিংসার’ শিকার না হন, সেদিকেও নজর রাখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও এ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মেধা, সততা ও দক্ষতাকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। কেউ যেন অন্যায়ভাবে সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করবে সরকার।

Comments
Comments