[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ভোটের পর এক মাস নিরাপত্তা দাবি আদিবাসী পরিষদের

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নির্বাচনে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি। মঙ্গলবার দুপুরে নগরের গণকপাড়া এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের আগে ও পরে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী এবং সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ। বিশেষ করে ভোটের পর অন্তত এক মাস নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহী নগরের গণকপাড়া এলাকায় জাতীয় আদিবাসী পরিষদ হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় সভাপতি গণেশ মারান্ডি। তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

গণেশ মারান্ডি বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মানুষ ভোটের সময় এবং ভোটের পর নানা ধরনের হয়রানি, ভয়ভীতি ও নির্যাতনের শিকার হন। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা নিরাপদে ভোট দিতে পারবে কি না, তা নিয়েও গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভোটকেন্দ্র দখল, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, জোরপূর্বক ভোট আদায় এবং ভোট না দিলে পরবর্তী সময়ে সমস্যায় পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কা তাদের মধ্যে কাজ করছে। এই অবস্থা থাকলে তাদের নাগরিক অধিকার ও ভোটাধিকার বাধাগ্রস্ত হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই পরিস্থিতিতে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। এর মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন, সিসিটিভি মনিটরিং চালু করা, সহিংসতা ও হুমকির ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভোটের পর অন্তত এক মাস আদিবাসী ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এক প্রশ্নের জবাবে গণেশ মারান্ডি বলেন, অনেক সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন যে একাধিক রাজনৈতিক দল থেকে ভোট চাওয়া হচ্ছে। ভোট না দিলে ভবিষ্যতে হয়রানির আশঙ্কা থাকলেও প্রকাশ্যে কেউ কথা বলতে পারছেন না। তারা শুধু চান, ভোটের সময় এবং পরে যেন লাঞ্ছিত না হন এবং শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভোটের পর কারা কাকে ভোট দিয়েছেন তা জানাজানি হলে যাদের ভোট দেওয়া হয়নি, তারা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর গালিগালাজ, হুমকি বা নানা ধরনের হয়রানিতে জড়াতে পারে। এখনো বড় কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি, তবে আদিবাসীরা গভীর অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে রয়েছেন। তাই ভোটের পর অন্তত এক মাস নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, নির্বাচনের পরিবেশ ভয়ভীতিমুক্ত, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সদস্য আন্দ্রিয়াস বিশ্বাস আনু, রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক মুকুল বিশ্বাস, মহানগর সাধারণ সম্পাদক ছোটন সরদার, গোদাগাড়ী উপজেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেমরম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাওন ভূঁইয়া এবং এলিনা আগ্নেশ তৃণা মুরমু।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন