[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ঢাকা-১৯ ও ২০ আসনের ফল বিশ্লেষণ: অনেক কেন্দ্রে শূন্য ভোট পেলেন প্রার্থীরা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ভোট দিচ্ছেন দুই নারী | ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ (সাভার) ও ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১৪ জন। মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ৪২২টি। প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই একাধিক ভোটকেন্দ্রে শূন্য, এক ও দুটি করে ভোট পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মোট প্রদত্ত ভোটের সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় ১০ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।

সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ঢাকা-১৯ আসনে প্রার্থী ছিলেন ৮ জন। মোট ভোটার ৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৭ জন। ২৭৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬৯টি। ডাকযোগে ভোট পড়েছে ৩ হাজার ৫৮৫টি। কেন্দ্র ও ডাকযোগে ভোট মিলিয়ে মোট ভোট হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৪টি। এর মধ্যে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৮৩ ভোট পেয়ে বিএনপির দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় জোটের এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ৮৭২ ভোট। ডাকযোগে ভোটে তিনি দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের চেয়ে ৪৬৩ ভোট বেশি পেয়েছেন।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ আসনে লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির মো. বাহাদুর ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৪৪০ ভোট। তিনি ২৭৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৯টি কেন্দ্রে ১ ভোট এবং ১৭টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। বাকি কেন্দ্রে দুটির বেশি ভোট পেয়েছেন। সাভার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ৩৬টি ভোট পেয়েছেন তিনি। ডাকযোগে ভোট পেয়েছেন ৩২টি।

ট্রাক প্রতীকে গণ অধিকার পরিষদের শেখ শওকত হোসেন পেয়েছেন ৬৯২ ভোট। তিনি ৮৬টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৭৮টি কেন্দ্রে ১ ভোট এবং ৪৮টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। জিরাবো দেওয়ান ইদ্রিস কলেজ কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ৩৫টি ভোট পেয়েছেন। ডাকযোগে ভোট পেয়েছেন ৯টি।

ছাতা প্রতীকে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রার্থী চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী পেয়েছেন ৬৫২ ভোট। তিনি ৫০টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৬৪টি কেন্দ্রে ১ ভোট এবং ৬৮টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয় কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ১৮টি ভোট পেয়েছেন। ডাকযোগে ভোট পেয়েছেন ১৯টি।

আম প্রতীকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ইস্রাফিল হোসেন সাভারী পেয়েছেন ৬৪৯ ভোট। তিনি ৭১টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৮০টি কেন্দ্রে ১ ভোট এবং ৫৫টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। সর্বোচ্চ বাইদগাঁও উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে পেয়েছেন ১২১টি ভোট।

হারিকেন প্রতীকে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. কামরুল পেয়েছেন ২১৭ ভোট। তিনি ১৩৯টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ১০২টি কেন্দ্রে ১ ভোট এবং ২৬টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। বেগুনবাড়ী উচ্চবিদ্যালয় (১৭১) কেন্দ্রে তিনি সর্বোচ্চ ৫ ভোট পেয়েছেন। ডাকযোগে ভোট পেয়েছেন ৬টি।

এ ছাড়া হাতপাখা প্রতীকের ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ ফারুক খান পেয়েছেন ১০ হাজার ৬২৬ ভোট। তবে তিনি সব কেন্দ্রে ৮টির বেশি ভোট পেয়েছেন।

এ আসনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৬৩৯ জন। ১৪৭টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৩৫ হাজার ৭২৩ জন। ডাকযোগে ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৬৩টি। সব মিলিয়ে এখানে ১ লাখ ৬২ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে বিএনপির মো. তমিজ উদ্দিন নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এনসিপির নাবিলা তাসনিদ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮৭ ভোট। ডাকযোগে ভোটে তমিজ উদ্দিনের চেয়ে ৬৩২ ভোট কম পেয়েছেন তিনি।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঈগল প্রতীকে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী হেলাল উদ্দিন আহাম্মদ পেয়েছেন ৪৯২ ভোট। তিনি ১৪৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি কেন্দ্রে শূন্য ভোট, ৩০টি কেন্দ্রে ১ ভোট এবং ২৭টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। কুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২৬টি ভোট পেয়েছেন তিনি। ডাকযোগে ভোট পেয়েছেন ১৪টি।

মোটরগাড়ি প্রতীকে বাংলাদেশ জাসদের প্রার্থী মো. আরজু মিয়া পেয়েছেন ২০৭টি ভোট। তিনি ৫০টি কেন্দ্রে কোনো ভোট পাননি এবং ৪৪টি কেন্দ্রে ১ ভোট ও ২৮টি কেন্দ্রে ২ ভোট পেয়েছেন। চন্ডিশ্বর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ২২ ভোট পেয়েছেন তিনি। ডাকযোগে ভোট পেয়েছেন ৯টি।

এ ছাড়া দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে খেলাফত মজলিসের মো. আশরাফ আলী মোট ৯ হাজার ২৫৫টি ভোট পেয়েছেন। তিনি সব কটি কেন্দ্রে আটটির বেশি ভোট পেয়েছেন। ডাকযোগে ভোট পেয়েছেন ১৭২টি।

লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির আহছান খান পেয়েছেন ৩ হাজার ১৩৫ ভোট। প্রতিটি কেন্দ্রে তিনি দুটির বেশি ভোট পেয়েছেন। ডাকযোগে ভোট পেয়েছেন ৫৯টি।

ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০ আসনে বিএনপি ও এনসিপির প্রার্থী ছাড়া বাকি ১০ জনেরই জামানত থাকছে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১৭ ও ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিতে হয়। কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। সে অনুযায়ী, এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বা সরকারি কোষাগারে জমা হবে। সেই হিসাবে ঢাকা-১৯ আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল প্রায় ৪২ হাজার ৫৮২ ভোট এবং ঢাকা-২০ আসনে প্রায় ২৯ হাজার ৯৭৩ ভোট।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন