নোবিপ্রবি উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সাদা দলের
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) উপাচার্য মুহাম্মদ ইসমাইলের ১৬ মাসের মেয়াদে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের নেতারা। পাশাপাশি জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা এসব দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী সাত দিনের মধ্যে উপাচার্য, সহ–উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের (ট্রেজারার) অপসারণ দাবি করেন শিক্ষক নেতারা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সাদা দলের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুম মাসুদসহ অন্যান্য শিক্ষক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩৪ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন, যার মধ্যে ৩১ জনই জামায়াতপন্থী। বাকি তিনজন বিএনপি ও অন্যান্য মতাদর্শের। এছাড়া ২১ জন কর্মকর্তা নিয়োগের মধ্যে ১৯ জনই জামায়াতপন্থী এবং তাঁদের মধ্যে সাতজন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে দাবি করা হয়। উপাচার্যের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ও কোষাধ্যক্ষ দপ্তরের এক সহকারী পরিচালকের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সাদা দলের দাবি, নয়জন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে দুজনের কোনো গবেষণাপত্র বা প্রকাশনা নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, নিয়ম ভেঙে সহযোগী অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে মাত্র একজন প্রার্থী নিয়ে নিয়োগ বোর্ড বসানো হয়। এছাড়া তড়িৎ প্রকৌশল (ইইই) বিভাগে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম হওয়া এক নারী প্রার্থীকে বাদ দিয়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষক নেতারা বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষকেরা ২৬ হাজার টাকা সম্মানী পেলেও উপাচার্য, সহ–উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ প্রত্যেকে দুই লাখ টাকা করে নিয়েছেন। ভর্তি পরীক্ষার সফটওয়্যার তৈরির নামে ৫ লাখ ৩১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও করা হয়। এছাড়া গত দুই মাসে উপাচার্য, সহ–উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের কক্ষ মেরামতে ৭৬ লাখ টাকা ব্যয় এবং আরও ১৮ লাখ টাকার বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম লাগানোর কাজ চলছে বলে জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, উপাচার্য নিজে বিজ্ঞানের শিক্ষক হওয়া সত্ত্বেও হিসাববিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বাংলা ও আইনসহ বিভিন্ন বিষয়ের প্রশ্নপত্র তৈরি ও পরিমার্জনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ বোর্ড গঠন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য মুহাম্মদ ইসমাইল জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলীয় পরিচয়ে নিয়োগের অভিযোগটি ভিত্তিহীন। প্রতিটি নিয়োগ বোর্ড ইউজিসির নীতিমালা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন মেনেই গঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা এখন অভিযোগ করছেন, তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন। অনিয়ম হয়ে থাকলে তখন তাঁরা আপত্তি তোলেননি কেন?’
সফটওয়্যার বিল ও কক্ষ মেরামতের ব্যয়ের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, সব কাজ সরকারি নিয়ম মেনে দরপত্রের মাধ্যমে করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করা যাবে।

Comments
Comments