৩২ বছর আগে বাবা ছিলেন মন্ত্রী, এবার সেই চেয়ারে মেয়ে ফারজানা
![]() |
| সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন। বুধবার দুপুরে | ছবি: প্রতিমন্ত্রীর ফেসবুক থেকে নেওয়া |
১৯৯৩ সালের ১৪ আগস্ট। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফজলুর রহমান (পটল)। এর প্রায় ৩২ বছর ৬ মাস পর বাবার সেই একই মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেলেন মেয়ে ফারজানা শারমীন। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি তিনি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পেয়েছেন।
ফারজানা শারমীন এবার নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপরই তিনি মন্ত্রিসভায় ডাক পান। গত মঙ্গলবার তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। বুধবার তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবস কাটিয়েছেন।
প্রয়াত ফজলুর রহমান নাটোর-১ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি সমাজকল্যাণ এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এই অঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় এক নেতা। স্থানীয় দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করেন, এবার ফারজানা শারমীনের বিজয়ী হওয়ার পেছনে তাঁর বাবা ফজলুর রহমানের জনপ্রিয়তার বড় প্রভাব রয়েছে।
তবে নির্বাচনে জয় পাওয়া ফারজানা শারমীনের জন্য সহজ ছিল না। তিনি বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর তাঁর বড় ভাই ইয়াসির আরশাদ এবং দলের সাবেক সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। শেষ মুহূর্তে তাঁর ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ালেও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও দল থেকে বহিষ্কৃত নেতা তাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর তীব্র লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
ফারজানা শারমীনকে এলাকার মানুষ পুতুল নামেই চেনেন। এবারের নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি বারবার বলতেন, ‘আমি পটলের বেটি, আমাকে ভোট দিয়ে বাবার উন্নয়নের ধারা বজায় রাখার সুযোগ দিন।’ ভোটাররা তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। ফলে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই তিনি মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিয়েছেন। এলাকার মেয়ে প্রতিমন্ত্রী হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে অনুসারী নেতা-কর্মীরা আনন্দ-উল্লাসে মেতে আছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফারজানা শারমীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তিনি পেশায় উচ্চ আদালতের একজন আইনজীবী। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নিলেও তিনি আগে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তবে ২০১৬ সালে বাবা ফজলুর রহমান মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সর্বশেষ তিনি নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনোনীত হন।
৪১ বছর বয়সী এই সংসদ সদস্যের মা কামরুন নাহার ঢাকার একটি কলেজের প্রধান বা অধ্যক্ষ ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসর জীবন যাপন করছেন। এর আগে তিনিও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটোর-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি।
ফারজানা শারমীনের মনোনয়নপত্রর সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে জানা গেছে, তিনি আয়কর বিবরণীতে সম্পদের পরিমাণ উল্লেখ করেননি। তবে অস্থাবর সম্পদ হিসেবে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তি হিসেবে বনানীতে ৫ কাঠা জমির ওপর নির্মিত ৫ তলা ভবন ও বনশ্রীতে একটি ভবনের তথ্য উল্লেখ করেছেন। তবে এসব সম্পত্তির মূল্য তিনি উল্লেখ করেননি। গৃহনির্মাণ ঋণ হিসেবে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৪২ হাজার ৪৭৭ টাকা দায়ের কথা জানালেও ওই ঋণ গত বছরের ১০ ডিসেম্বর পরিশোধ করা হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাঁর স্বামী এইচ এম বাররু সানির পেশা ‘ব্যবসা’ উল্লেখ করলেও তাঁর সম্পদ ও আয়ের কোনো বিবরণ দেননি।

Comments
Comments