বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা: উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
![]() |
| অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন বিষয়ে সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে বেলা দুইটায় সংবাদ সম্মেলন করা হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি | ছবি: বাসস |
আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। এবারের বইমেলার মূল ভাবনা বা প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর দুইটায় মেলার উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি ২০২৫ সালের 'বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার' বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন।
২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। তবে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিনগুলোতে মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর উদ্বোধন ও সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার দুপুর দুইটায় এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানেই এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বইমেলায় বাংলা একাডেমি ও মেলায় অংশ নেওয়া অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫ শতাংশ ছাড়ে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের নির্ধারিত ছাড়ে বই বিক্রি করবে। বাংলা একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রির জন্য মেলার দুই অংশেই বিক্রয়কেন্দ্র থাকবে।
এবারের বইমেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান থাকছে। সব মিলিয়ে স্টল বা ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াবে ১ হাজার ১৮টি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছের গাছতলায় করা হয়েছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর, যেখানে ৮৭টি সাময়িকীকে জায়গা দেওয়া হয়েছে।
এবারের অমর একুশে বইমেলাকে পরিবেশবান্ধব ও ‘জিরো ওয়েস্ট’ বা বর্জ্যহীন মেলায় পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো হবে এবং মশা নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা থাকবে।
মেলা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের স্টল, দোকান, মঞ্চ, ব্যানার ও লিফলেট তৈরিতে পাট, কাপড় বা কাগজের মতো পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে। খাবারের দোকান ও কফি শপের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেলার বিন্যাস গতবারের মতো থাকলেও কিছু কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের কারণে গতবারের বের হওয়ার পথটি এবার একটু সরিয়ে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্ল্যান্ট ও ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন অংশে মোট চারটি প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ থাকবে।
খাবারের দোকানগুলো রাখা হয়েছে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে। এছাড়া পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে দর্শনার্থীদের জন্য তারাবিহ নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। নামাজের স্থান, শৌচাগারসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবাও চালু থাকবে।
অমর একুশে বইমেলায় শিশুদের জন্য আলাদাভাবে থাকছে শিশুচত্বর। সেখানে ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের মোট ১০৭টি স্টল থাকবে। শিশুরা যাতে নির্বিঘ্নে ঘোরাঘুরি করতে পারে এবং পছন্দের বই সহজে সংগ্রহ করতে পারে, সেজন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে এই বিশেষ চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় প্রতি শুক্র ও শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’।
প্রতিদিন দুপুর তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত মেলার মূল মঞ্চে বিভিন্ন বিষয়ে সেমিনার এবং বিকেল চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে। এ ছাড়া অমর একুশে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা রয়েছে। বরাবরের মতো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে থাকবে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করার জায়গা।
মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে পর্যাপ্ত তল্লাশি গেট (আর্চওয়ে) বসানো হয়েছে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণ ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরার (সিসিটিভি) আওতায় থাকবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।
দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে মেলা প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দোয়েল চত্বর থেকে টিএসসি হয়ে শাহবাগ, মৎস্য ভবন, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন এবং শহীদ মিনার ও নীলক্ষেত পর্যন্ত যাতায়াতের পথেও এই আলোর ব্যবস্থা থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে গুণগত বিচারে সেরা বইয়ের জন্য ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে। এছাড়া শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান পাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ বইয়ের মান বিচারে সেরা প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং স্টলের চমৎকার সাজসজ্জার জন্য শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
এবারের মেলায় প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’। যেসব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ২০২৪ বা ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো মেলায় অংশ নিচ্ছে, তাদের মধ্য থেকে বইয়ের গুণগত মান ও সংখ্যার বিচারে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কার (প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়) দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সচিব ও বইমেলা ২০২৬-এর সদস্যসচিব মো. সেলিম রেজা, জনসংযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জি এম মিজানুর রহমান এবং বইমেলা ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক সরকার আমিন। এছাড়া মেলা আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান 'বর্তমান বাংলা লিমিটেড'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপক (কমিউনিকেশন ম্যানেজার) ইয়াছিন শরীফও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

Comments
Comments