খাগড়াছড়িতে বিএনপিতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগ, এনসিপি ও জাতীয় পার্টির ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী
![]() |
| খাগড়াছড়ি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়াকে ফুলের তোড়া তুলে দিচ্ছেন দলে নবাগতদের কয়েকজন। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার একটি কমিউটিনিটি সেন্টারে | ছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত |
খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার সন্ধ্যায় তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এ উপলক্ষে মাটিরাঙ্গা উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা বিএনপি।
বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মাটিরাঙ্গা পৌরসভা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, পৌরসভা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন এবং এনসিপির উপজেলা কমিটির সদস্য লিটন বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়ার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁরা বিএনপিতে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে নতুন যোগ দেওয়া নেতা-কর্মীদের স্বাগত জানিয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে মাটিরাঙ্গায় বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংহত হবে। আগামী দিনের আন্দোলন ও নির্বাচনী রাজনীতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল কাজল, আওয়ামী লীগ থেকে যোগ দেওয়া মো. সাইফুল ইসলাম এবং জাতীয় পার্টি থেকে যোগ দেওয়া মো. আলাউদ্দিন।
যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর জাতীয় পার্টির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘বিএনপি এ দেশের গণমানুষের দল। জনগণের অধিকার ও ভোটের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভূমিকা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। এ কারণেই ওয়াদুদ ভূঁইয়ার হাতকে শক্তিশালী করতে জাতীয় পার্টি ও এনসিপির পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী নিয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’
আরেক যোগদানকারী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এবং বিএনপির ঘোষিত কর্মসূচির প্রতি আস্থা রেখেই বিএনপিতে যোগ দিয়েছি।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবু ইউসুফ চৌধুরী, মনিন্দ্র কিশোর ত্রিপুরা, নাছির আহম্মদ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আবদুল মালেক, মো. মোশাররফ হোসেন এবং মাটিরাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বদিউল আলমসহ অন্যরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পার্টির খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা বলেন, ‘যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দু-একজন ছাড়া বাকিরা পরিচিত নন। তাঁদের যোগদানে দলের কার্যক্রম ও নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে না।’ একই মন্তব্য করেন খাগড়াছড়ি জেলা এনসিপির সদস্যসচিব সুবোধ বিকাশ চাকমা। তিনি বলেন, ‘আমাদের দল থেকে যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁরা সক্রিয় সদস্য নন। এমনকি তাঁদের অনেককে আমরা চিনিও না।’
আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের যোগদানের বিষয়ে জানতে চাইলে মাটিরাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শাহজালাল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যে কজন বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের নামে কোনো মামলা নেই। তাঁরা আওয়ামী লীগের কর্মী বা সমর্থক হলেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। তাঁরা কারও ক্ষতি করেননি। আমরা তাঁদের যোগদানকে ইতিবাচকভাবেই নিয়েছি।’

Comments
Comments