[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সংখ্যালঘু–সংশ্লিষ্ট অধিকাংশ ঘটনাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়: প্রধান উপদেষ্টার পোস্ট

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ছবির ক্যাপশান, ২০২৫ সালে এক বছরে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার যে ৬৪৫টি ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, তার মধ্যে মাত্র ৭১ টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পেয়েছে পুলিশ | ফাইল ছবি 

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু–সংশ্লিষ্ট যেসব অপরাধের খবর পাওয়া গেছে, সেগুলোর অধিকাংশই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে পুলিশের নথি পর্যালোচনা করে, আজ সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্টে এ তথ্য জানান। পোস্টে বলা হয়েছে, দেশে সবার জন্য আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

২০২৫ সালের পুলিশের নথি পর্যালোচনায় সংখ্যালঘু–সংশ্লিষ্ট ৬৪৫টি ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, প্রতিটি ঘটনার বিষয় ‘উদ্বেগজনক’, তবে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ ঘটনা সাম্প্রদায়িক সহিংসতা নয়, বরং সাধারণ অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব ঘটনা একদিকে আইনশৃঙ্খলার চ্যালেঞ্জ নির্দেশ করে, অন্যদিকে ভীতি বা বিভ্রান্তির বদলে তথ্যভিত্তিক আলোচনার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে।

পর্যালোচনায় মোট ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান দেখা গেছে। এর বাইরে ৫৭৪টি ঘটনা সাম্প্রদায়িক নয় বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, সাম্প্রদায়িক ঘটনার মধ্যে প্রধানত ধর্মীয় উপাসনালয়, প্রতিমা ভাঙচুর বা অবমাননার ঘটনা ছিল। অল্পসংখ্যক অন্যান্য অপরাধও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে সংখ্যালঘু ব্যক্তি বা সম্পত্তিকে প্রভাবিত করার অধিকাংশ ঘটনা ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়, বরং সাধারণ অপরাধ থেকে উদ্ভূত, যেমন প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধ, জমিসংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, চুরি, যৌন সহিংসতা ও পূর্বের ব্যক্তিগত শত্রুতাজনিত ঘটনা।

পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালে যে ৭১টি ঘটনায় সাম্প্রদায়িক উপাদান পাওয়া গেছে, তার মধ্যে মন্দির ভাঙচুরের ৩৮টি, মন্দিরে চুরির ১টি, হত্যাকাণ্ডের ১টি, মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ৮টি, প্রতিমা ভাঙার হুমকি, ফেসবুক পোস্ট, উপাসনালয়ের আঙিনায় ক্ষতির মতো ২৩টি ঘটনা রয়েছে।

এসব ঘটনায় মোট ৫০টি মামলা হয়েছে। ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২১টি ঘটনায় অন্যান্য পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও পোস্টে জানানো হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সব ধরনের অপরাধই গুরুতর এবং জবাবদিহি দাবি করে। তবে উপাত্ত থেকে দেখা গেছে, সংখ্যালঘু ভুক্তভোগীদের অধিকাংশ ঘটনা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে নয়, বরং ধর্ম ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থাকা বিস্তৃত অপরাধমূলক ও অন্যান্য সামাজিক কারণে ঘটেছে। পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ভ্রান্ত তথ্য প্রতিরোধে সহায়তা করে এবং আরও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সাহায্য করে।

প্রতিবেদনে পুলিশের উল্লেখযোগ্য তৎপরতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, ধর্মীয় উপাসনালয় বা সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল বিষয় জড়িত—এমন ঘটনাগুলোতে অপরাধ দমন ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন দেখা যায়।

জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ এখনও গুরুতর আইনশৃঙ্খলা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রতিবছর সারা দেশে সহিংস অপরাধে গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে, যা কোনোভাবেই গর্ব করার বিষয় নয়। প্রতিটি প্রাণহানি একটি ট্র্যাজেডি, এবং এমন পরিসংখ্যানের মুখে কোনো সমাজই আত্মতুষ্টিতে ভোগা উচিত নয়। তবে একই সঙ্গে এই পরিসংখ্যানকে প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপটে দেখা প্রয়োজন। সহিংস অপরাধ ধর্ম, জাতিগত পরিচয় বা ভৌগোলিক সীমা অতিক্রম করে সব সম্প্রদায়কেই প্রভাবিত করে, ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার পোস্টে আরও বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদ্যমান সূচকগুলো দেখায় যে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির পথে রয়েছে। উন্নত পুলিশি ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়, দ্রুত সাড়া প্রদান এবং জবাবদিহি বৃদ্ধির ফলে ধীরে হলেও অর্থপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধ আরও কমিয়ে আনার এবং আইনের আওতায় সবার জন্য সমান সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান এবং অন্যান্য বিশ্বাসের মানুষের দেশ, যেখানে সব নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কেবল সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক কর্তব্য। উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, উসকানি প্রতিরোধ করা, অপরাধমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং গুজব থেকে সত্য আলাদা করা সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য অত্যাবশ্যক, বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবেদনটি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে চ্যালেঞ্জ অস্বীকার করা হয়নি, আবার স্বস্তিদায়ক বলেও দাবি করা হয়নি; বরং এটি বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর প্রভাব ফেলছে—এমন অপরাধপ্রবণতার একটি বাস্তব ও প্রমাণভিত্তিক চিত্র তুলে ধরার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা দ্বারা নির্ধারিত হয় না; বরং এগুলো মোকাবিলার সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেলেও এটি স্পষ্ট, বাংলাদেশের সব নাগরিকের জন্য—মুসলিম, হিন্দু এবং অন্যান্য—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতির পথে রয়েছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন