‘আদালত এখন বন্ধ হবে, আর যদি খুলা হয় তাহলে বম মারা হবে’
![]() |
| বিচারকের কার্যালয়ের সামনে সাঁটানো চিরকুট। মঙ্গলবার দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারকের কার্যালয়ের সামনে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের প্রাঙ্গণে জজের কক্ষে প্রবেশপথের দেয়ালে একটি চিরকুট সাঁটানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। চিরকুটে লেখা, ‘আদালত এখন বন্ধ হবে, আবার জানুয়ারিতে খুলা হবে। আর যদি খুলা হয় তাহলে বম মারা হবে।’ একই ধরনের আরেকটি চিরকুট আদালতের এ এস এম মেহেদী হাসান নামে এক আইনজীবীর কক্ষ থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে চিরকুট দুটি নজরে আসার পর আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং কিছুটা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের নাজির রবিউল ইসলাম বিকেলে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া ঈশ্বরগঞ্জ বার অ্যাসোসিয়েশনও সন্ধ্যায় আরেকটি জিডি করে।
ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার থানা রোডের দত্তপাড়া এলাকায় ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আদালত পরবর্তীতে সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে রূপান্তরিত হয়। এখান থেকে ঈশ্বরগঞ্জ, নান্দাইল ও গৌরীপুর উপজেলার বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
একাধিক বিচারপ্রার্থী অভিযোগ করেছেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসি ক্যামেরা না থাকা খুবই দুঃখজনক। সিসি ক্যামেরা থাকলে এই কাজটি করা ব্যক্তিকে সহজেই চিহ্নিত করা যেত। চিরকুট দুটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
ঈশ্বরগঞ্জ সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি এ এস এম সারোয়ার জাহান বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে হুমকিসূচক চিরকুট পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এতে বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। যিনি এই কাজ করেছেন, তাকে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি রবিউল আজম বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণ ও একজন আইনজীবীর কক্ষে হুমকির চিরকুট পাওয়ার ঘটনায় পৃথক দুটি জিডি করা হয়েছে। আমি আদালত এলাকা পরিদর্শন করেছি। চিঠি থেকে বোঝা গেছে, এটি আনকোরা হাতের লেখা। পরিস্থিতি বিবেচনায় আদালত প্রাঙ্গণ পুলিশি টহল এবং গোয়েন্দা নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। জিডি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Comments
Comments