বিয়ের ১৬ দিনে সিলেটে আগুনে পুড়ে নববধূর মৃত্যু, স্বামী কারাগারে
![]() |
| রেছনা বেগম | ছবি: সংগৃহীত |
সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় বিয়ের ১৬ দিনের মাথায় আগুনে দগ্ধ হয়ে রেছনা বেগম (২৩) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর দুই পরিবারের পক্ষ থেকে একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করা হচ্ছে।
রেছনা বেগম বিশ্বনাথ উপজেলার খাজাঞ্চী ইউনিয়নের দ্বীপবন্দ বিলপাড় গ্রামের আবদুল মালিকের (৩৪) স্ত্রী এবং অলংকারী ইউনিয়নের আলমনগর গ্রামের আবদুশ শহীদ সরকারের মেয়ে। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি পারিবারিকভাবে আবদুল মালিকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
রেছনার পরিবারের দাবি, শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের পর তাঁকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে পুলিশ আবদুল মালিককে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেলের দিকে স্বামীর বাড়িতে আগুনে দগ্ধ হন রেছনা বেগম। প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
অন্যদিকে, আবদুল মালিকের পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন সকালে আবদুল মালিক বাড়িতে ছিলেন না। তিনি বড় ভাইয়ের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য সিলেটের একটি ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরাও সঙ্গে ছিলেন। ওই সময় ঘরে ছিলেন শুধু রেছনা এবং আবদুল মালিকের আট বছর বয়সী এক ভাগনি। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে রান্নাঘর থেকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে রেছনাকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন।
রেছনার চাচা আবদুল সাত্তার অভিযোগ, রেছনাকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করে আগুনে পুড়িয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, এই ঘটনায় দ্রুত মামলা করা হবে।
বিশ্বনাথ থানার ওসি গাজী মাহবুবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন, রেছনার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারটি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

Comments
Comments