[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বেড়ে দাঁড়াল ৪২ হাজার কোটি টাকা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বিদ্যুৎ খাত | প্রতীকী ছবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে খরচ কমিয়ে সাশ্রয়ের ওপর জোর দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। কিছু ক্ষেত্রে তারা সাশ্রয়ও করেছে। তবে এর মধ্যেই এক বছরের ব্যবধানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে প্রায় ৮ শতাংশ। একই সময়ে শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) কর্মকর্তাদের মতে, তিনটি কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। তাঁদের ভাষ্য, তুলনামূলকভাবে সস্তা জ্বালানি হিসেবে পরিচিত গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও হ্রাস পেয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও পিডিবির কাছ থেকে বেশি দামে তেল বিক্রি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এসব কারণে উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচ আরও বেড়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। বিদ্যুৎ উৎপাদন হোক বা না হোক, প্রতিটি কেন্দ্রকে চুক্তি অনুযায়ী ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়। এই ক্যাপাসিটি চার্জই কেন্দ্রভাড়া নামে পরিচিত।

পিডিবি সূত্র জানায়, ২০২২–২৩ অর্থবছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ২৪ হাজার ৯১১ মেগাওয়াট। সে বছর কেন্দ্রভাড়া দিতে হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার ৯৮ মেগাওয়াট, আর কেন্দ্রভাড়া ছিল ৩২ হাজার কোটি টাকা। পরে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি নবায়ন না করায় ২০২৪–২৫ অর্থবছরে উৎপাদন সক্ষমতা কমে হয় ২৭ হাজার ৪১৪ মেগাওয়াট। এই অর্থবছরে কেন্দ্রভাড়া দিতে হয়েছে ৪২ হাজার কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে কেন্দ্রভাড়া বেড়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩৫টি। এর মধ্যে ৬৮টি বেসরকারি খাতের। পিডিবির দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বিল পরিশোধ করা হয় টাকায়, তবে বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের হিসাব করা হয় ডলারে। বেসরকারি খাতের ৯০ শতাংশের বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিল পুরোপুরি ডলারে নির্ধারিত। সৌরচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রেও সব বিল ডলারে হিসাব করা হচ্ছে।

এ ছাড়া ভারত থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়, যার বিল ডলারে পরিশোধ করতে হয়। যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদেশি ঋণ রয়েছে, সেগুলোর কিস্তিও ডলারে পরিশোধ করতে হয়। আগের বছরের তুলনায় ডলারের দাম ১০ থেকে ১২ টাকা বেড়ে যাওয়ায় পিডিবির খরচ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১০৯ টাকা। ওই অর্থবছরের মে মাসেও দাম ছিল ১১০ টাকা। শেষ দুই মাসে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮ টাকায়। অন্যদিকে, গত অর্থবছরের শুরুতে ডলারের দাম ছিল ১১৮ টাকা, যা বছর শেষে গিয়ে দাঁড়ায় ১২২ টাকায়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, গত গ্রীষ্মে লোডশেডিং বন্ধ রাখতে আগের বছরের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। তবে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। এতে তেল ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হয়েছে, যার ফলে খরচও বেড়েছে।

গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দরপত্র ছাড়াই একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে বাড়তি কেন্দ্রভাড়া নির্ধারণ করে চুক্তি করা হয়েছে। পটপরিবর্তনের পর এসব বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনার জন্য ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর একটি কমিটি গঠন করে অন্তর্বর্তী সরকার।

বিদ্যুৎ চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করে গত ২৫ জানুয়ারি ওই কমিটি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রায় ৭ হাজার ৭০০ থেকে সাড়ে ৯ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বা অলস বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। এই অলস সক্ষমতার জন্য বছরে ৯০ থেকে ১৫০ কোটি ডলার, অর্থাৎ ১১ হাজার থেকে ১৮ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রভাড়া দিতে হচ্ছে।

জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক সংকটের অন্যতম প্রধান কারণ হলো কেন্দ্রভাড়ার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং এর অপব্যবহার। গত দেড় দশকে বিদ্যুৎকেন্দ্রকে পরিশোধ করা মোট বিল ১১ গুণ বেড়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রভাড়া বেড়েছে প্রায় ২০ গুণ। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোকে দেওয়া বিলের সবচেয়ে বড় অংশই হলো কেন্দ্রভাড়া।

সাধারণভাবে কোনো প্রকল্পের ঋণ ১২ বছরের মধ্যেই পরিশোধ হয়ে যায়। তবে চুক্তির শর্তের কারণে ১৩ থেকে ২২ বছর পর্যন্ত অত্যন্ত উচ্চ হারে কেন্দ্রভাড়া দিতে হচ্ছে।

কেন্দ্রভাড়া ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার তুলনা করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন না বাড়লেও বা কমলেও চুক্তির শর্তের কারণে কেন্দ্রভাড়া বাড়তেই থাকে। কিছু নির্দিষ্ট প্রকল্পে এই অসামঞ্জস্যের মাত্রা খুব বেশি। উচ্চ হারের এই কেন্দ্রভাড়া কমাতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে দ্রুত নতুন করে দর–কষাকষি করা প্রয়োজন বলে মনে করে পর্যালোচনা কমিটি। আর যেখানে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেখানে সরাসরি চুক্তি বাতিলের কথাও বলা হয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকেরা কেন্দ্রভাড়াকে বাড়িভাড়ার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বাড়ির ভাড়া ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে না। বাড়িতে না থাকলেও নিয়মিত ভাড়া দিতে হয়। একইভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন না হলেও ভাড়া দিতে হচ্ছে। দেশে জ্বালানির ঘাটতি রয়েছে। সে কারণে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানির সমন্বয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। গ্যাসের সংকট হলে জ্বালানি তেল বা কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র ব্যবহার করা যায়। এই কারণেই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারও প্রয়োজন যদি একটি বাড়ি হয়, আর সে ভাড়া নেয় তিনটি বাড়ি, তাহলে মোট ভাড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা অনেকটা তরকারিতে লবণের মতো—এটি খুব বেশি কমানো বা বাড়ানোর সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে রিজার্ভ মার্জিন বা বাড়তি সক্ষমতা ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হওয়া যুক্তিসংগত। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত মেনে নেওয়া যায়। অথচ বর্তমানে দেশে তা ৫০ শতাংশের বেশি। এই সক্ষমতা যত বাড়বে, খরচও তত বাড়তে থাকবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও অর্থ পরিশোধ করতে হবে।

চুক্তি পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ বা বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনার জন্য গত বছরের ২১ জানুয়ারি আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বর্তমানে কাজ করছে।

কেন্দ্রভাড়া কমানোর বিষয়ে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভাড়া কমাতে আলোচনা চলছে। চুক্তি পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চাপ রয়েছে। গত সরকার গত দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার এবং খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। পটপরিবর্তনের পর দাম না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমানোর দিকে নজর দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এ জন্য জ্বালানি তেল আমদানির খরচ কমানো হয়েছে। কয়লার খরচও কমানো হয়েছে। কিছু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করা হয়নি। তবে এসব উদ্যোগের পুরো সুফল গত অর্থবছরে পাওয়া যায়নি। চলতি অর্থবছরে উৎপাদন খরচ কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২–২৩ অর্থবছরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১১ টাকা ৫৪ পয়সা। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে খরচ ১০ পয়সা কমে দাঁড়ায় ১১ টাকা ৪৪ পয়সায়। এতে খরচ কমেছে প্রায় ১ শতাংশ। তবে ২০২৪–২৫ অর্থবছরে এসে প্রতি ইউনিট উৎপাদন খরচ বেড়ে হয়েছে ১২ টাকা ৩৪ পয়সা। অর্থাৎ প্রতি ইউনিটে খরচ বেড়েছে ৯০ পয়সা। দেড় বছরেও সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি। এর ফলে পিডিবির ভর্তুকি ও লোকসান বেড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি তেল আমদানির সার্ভিস চার্জ ৪ শতাংশ কমানোয় ৪৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। প্রতি জাহাজে ১৫ হাজার টনের পরিবর্তে ২০ হাজার টন তেল আমদানি নির্ধারণ করায় সাশ্রয় হবে ৩৫৪ কোটি টাকা। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করায় বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া অন্যান্য বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ট্যারিফ কমিয়ে ২ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থাপনাভাড়া ও বিলম্ব মাশুল বা জরিমানা আদায়সহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ৯ হাজার ২১০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগের বছরের তুলনায় ২০২৩–২৪ অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছিল সাড়ে ৮ শতাংশ। আর গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ। সবচেয়ে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় গ্যাস দিয়ে। গত বছর গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ৪৪ শতাংশ। আগের বছর এই হার ছিল ৪৮ শতাংশ।

তবে বেশি খরচের তেলচালিত, অর্থাৎ ফার্নেস ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন কমানো হয়েছে। একই সময়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদন বেড়েছে। আগের বছর কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের হার ছিল ২০ শতাংশ। গত বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭ শতাংশে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের তুলনায় কয়লায় খরচ হয় প্রায় দ্বিগুণ। এর ফলে সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে গেছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পিডিবি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বা বিপিসির কাছ থেকে তেল কেনে। অন্যদিকে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নিজেরাই তেল আমদানি করে। সবশেষ ২০২৪ সালের ২ আগস্ট বিপিসি ফার্নেস তেলের দাম নির্ধারণ করে। এরপর গত দেড় বছরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলেও দেশে তা সমন্বয় করা হয়নি।

ফলে প্রতি লিটার ফার্নেস তেল কিনতে পিডিবির খরচ হয়েছে ৮৬ টাকা। অথচ বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো একই তেল কিনছে ৭০ টাকায়। এতে পিডিবির ব্যয় বেড়ে গেছে। বিপিসির দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব বর্তমানে বিইআরসির কাছে রয়েছে। এ মাসে এ বিষয়ে গণশুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

পিডিবির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিদ্যুৎ কেনার খরচ প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এ খাতে মোট খরচ হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা। আগের অর্থবছরে এই খরচ ছিল ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা। মূলত বেসরকারি খাত থেকে বিদ্যুৎ কিনতেই ব্যয় বেড়েছে।

বেসরকারি খাতের স্বতন্ত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী বা আইপিপিদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কেনার খরচ বেড়েছে ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। এই খাতেই ব্যয় হয়েছে ৭২ হাজার কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট, অর্থাৎ কিলোওয়াট-ঘণ্টা আইপিপি বিদ্যুতের দাম পড়েছে ১৪ টাকা ৫৬ পয়সা। আগের বছর এই দাম ছিল ১৩ টাকা ১৬ পয়সা।

অন্যদিকে, প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১২ টাকার বেশি, অথচ পিডিবি বিদ্যুৎ বিক্রি করছে ৭ টাকা ৪ পয়সায়। এর ফলে প্রতিবছরই পিডিবির আর্থিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে। এই ঘাটতি মেটাতে সরকারকে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে গত অর্থবছরে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে ৫৯ হাজার কোটি টাকা।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, লুণ্ঠনমূলক ব্যয়ের মাধ্যমে গত সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বাড়িয়েছে। খরচ কমানোর উপায় ক্যাবের পক্ষ থেকে তুলে ধরা হলেও সরকার সে পথে যায়নি। দায়মুক্তি আইন বাতিল করা হলেও সব চুক্তি আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। তাঁর মতে, সরকার আগের ধারাবাহিকতাতেই বিদ্যুৎ খাত পরিচালনা করে যাচ্ছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন