[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙা মামলার আসামি, তাঁর হাতেই ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ফরিদপুরের সালথায় শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙা মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন তাঁর (শামা ওবায়েদ) হাতে ফুল দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। রোববার বিকেলে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ফরিদপুরের সালথায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদের গাড়ি ভাঙচুরের মামলার আসামি ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন মিয়া। রোববার বিকেলে সালথায় শামা ওবায়েদের হাতেই ফুল দিয়ে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।

শামা ওবায়েদ বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনে তিনি দলীয় মনোনীত প্রার্থী। আজ বিকেলে তিনি সালথার ভাওয়াল গ্রামে বিএনপির প্রয়াত নেতা আতিয়ার রহমান কবির মিয়ার কবর জিয়ারত করেন। এরপর সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় অংশ নেন। ওই সভায় শামা ওবায়েদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন আনোয়ার হোসেন মিয়া। পরে তিনি বক্তব্যও দেন।

আনোয়ার হোসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ভাওয়াল ইউনিয়নের ইউসুফ দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় সালথায় যান শামা ওবায়েদ। তখন তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘটনার মামলায় আনোয়ার হোসেন ১২ নম্বর আসামি। আইনজীবীরা জানান, তিনি বর্তমানে জামিনে আছেন।

সভায় বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি আজ থেকে বিএনপি নেত্রী শামা ওবায়েদের দলে যুক্ত হলাম। আগামীতে আমি শামা ওবায়েদের একজন সৈনিক হয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করে যাব।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আছাদ মাতুব্বরসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।’

তবে বিএনপিতে যোগ দিলেও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক পদ থেকে আনোয়ার হোসেন ইস্তফা দেননি বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শওকত হোসেন নিজের ফেসবুকে লিখেছেন, ‘উনি (আনোয়ার) সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। উনার ভাই ছিলেন সালথা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। আরেক ভাই জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও জজকোর্টের এপিপি।... যে পদ দিয়ে এত টাকা কামিয়েছেন, আফসোস, সেই পদটাও সঙ্গে নিয়ে গেলেন। পদত্যাগ না করেই বিএনপিতে যোগ দিলেন। মানুষ এত বড় অকৃতজ্ঞ হয় কী করে?’

এ বিষয়ে আনোয়ার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি। তাঁর ভাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, আনোয়ারের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর আছে। তবে আনোয়ার তাঁর কাছে কোনো পদত্যাগপত্র দেননি। হয়তো দু-এক দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাবেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন