[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সুতায় বন্ড সুবিধা প্রশ্নে মতবিরোধ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বন্ড সুবিধা | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন 

১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের উদ্যোগকে ঘিরে দেশের দুই শীর্ষ খাত—বস্ত্রকল ও রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প—মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দেশীয় সুতাশিল্প সুরক্ষার যুক্তিতে সুবিধা তুলে নেওয়ার পথে থাকলেও, তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে।

সব মিলিয়ে সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের প্রশ্নে শিল্পের দুই প্রধান পক্ষ এখন স্পষ্টভাবে বিপরীত অবস্থানে। একদিকে শিল্প সুরক্ষার দাবি, অন্যদিকে রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখার উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এই দ্বন্দ্বের সমাধান কীভাবে আসে, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের নজরে।

জানা গেছে, দেশীয় সুতাশিল্পের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ, প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানি করে বাজারে ডাম্পিং করা হচ্ছে। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ দাবি করেছে, এই ডাম্পিংয়ের কারণে দেশের সুতাশিল্প বা স্পিনিং মিলগুলো চরম সংকটে পড়েছে। গত বছরের শেষ দিকে সংগঠনটি জানিয়েছে, বাজারে প্রায় ১২০ বিলিয়ন টাকার অবিক্রীত সুতা জমে আছে। অনেক মিল উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে, কোনো কোনো মিল পুরোপুরি বন্ধও হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ভারতীয় সুতা আমদানির পক্ষে যারা কথা বলছেন, তারা বাস্তবতা বুঝতে পারছেন না। তারা অন্যায় আবদার করছেন। আমরা সুতার ডাম্পিং নয়, ন্যায্য দাম চাই। ভারত নিয়মিতভাবে কম দামে সুতা ঢুকিয়ে আমাদের বাজার দখল করছে। এতে দেশের কারখানাগুলো টিকতে পারছে না। তিনি মনে করেন, এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে ভ্যালু অ্যাডিশন বাড়ানো জরুরি। কারণ ভারত যেকোনো সময় সুতা রপ্তানি বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প বড় বিপদে পড়বে।

এই বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পোশাকশিল্পে ব্যবহৃত ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রদেয় বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রত্যাহারের বিষয়ে একমত হয়েছে। ১২ জানুয়ারি মন্ত্রণালয় ডব্লিউটিও সেল থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে পাঠানো চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছে। একই সঙ্গে বিল অব এন্ট্রিতে সুতার কাউন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ এবং এইচএস কোডের অপব্যবহার রোধে কাস্টমসকে কঠোর নজরদারি করার অনুরোধ জানিয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, এই সুবিধা থাকায় নিম্ন কাউন্টের সুতা শুল্কমুক্ত বা কম শুল্কে আমদানি হয়ে দেশীয় বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। বর্তমানে মিলগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ৬০ শতাংশ, যা শিল্পটির আর্থিক স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে তৈরি পোশাক ও নিট পোশাক শিল্পের মালিকেরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। তাদের মতে, বন্ড সুবিধা তুলে দিলে আমদানি করা সুতার ওপর শুল্ক বেড়ে যাবে, ফলে আরএমজি খাতের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই উদ্বেগ তুলে ধরতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ যৌথভাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে। সোমবার রাজধানীর প্যানপ্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

অনুষ্ঠানে খাত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বিটিএমএ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের বিরোধিতা করে তৈরি পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরবেন।

এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশীয় স্পিনারদের সুরক্ষা প্রয়োজন, তবে তা করতে গিয়ে পোশাকশিল্পকে চাপে ফেলা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, সরকার চাইলে বিকল্প সহায়তা ব্যবস্থার মাধ্যমে স্পিনিং শিল্পকে সহায়তা দিতে পারে। তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, স্থানীয় সুতা ব্যবহারে নগদ সহায়তা পুনর্নির্ধারণ করে ৫ শতাংশ করলে দেশীয় মিল উপকৃত হবে এবং ভ্যালু অ্যাডিশনও বাড়বে।

এদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতার কথাও সামনে এনেছে। ২০২৬ সালের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা কমে গেলে রপ্তানিতে উচ্চমাত্রার স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাধ্যতামূলক হবে। সেই প্রস্তুতি এখনই না নিলে ভবিষ্যতে পোশাকশিল্প আরও বড় চাপে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা নীতিনির্ধারকদের।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন