[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

এনসিপির প্রার্থীকে মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল জামায়াত

প্রকাশঃ
অ+ অ-
পদ্মা ট্রিবিউন কোলাজ

জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটে চূড়ান্ত ২৫৩টি আসনের মধ্যে ৩০টিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এসব আসনে প্রার্থী নিয়েও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমেও জামায়াত-শিবিরের তৃণমূল নেতাকর্মীরা এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে নানা নেতিবাচক তথ্য ও মন্তব্য ছড়াচ্ছেন। সমঝোতায় এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়া হলেও অনেক জায়গায় দলটির প্রার্থীদের মানতে নারাজ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। ঢাকা-১৯, নরসিংদী-২, লক্ষ্মীপুর-১সহ বেশ কিছু আসনে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ঢাকা-১৯ আসনে এনসিপির ডায়াস্পোরা এলায়েন্সের দিলশানা পারুল নিজেকে ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছেন। স্থানীয়ভাবে তিনি সাভারের বাসিন্দা হলেও অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী দিলশানা ফিরে এসে মনোনয়ন পেয়েছেন। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী আফজাল হোসাইন, যিনি এখনো নিজেকে প্রত্যাহার করেননি।

সাভার উপজেলার জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা দিলশানা পারুলের বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন। ঢাকা জেলা উত্তরের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আলমগীর হোসাইন রাকিব ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ঢাকা-১৯ আসনের প্রার্থী ও এনসিপির নেত্রী দিলশানা পারুল শাহবাগি আদর্শে বিশ্বাসী, ইসলামবিদ্বেষী এবং এলজিবিটি মতাদর্শের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। এসব অবস্থান আমাদের আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। শাহবাগ আন্দোলনের কারণে আমাদের বহু শীর্ষ নেতৃত্বকে হারাতে হয়েছে, যা আজও আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। সেই শাহবাগী গোষ্ঠীই ফ্যাসিবাদের অন্যতম সহায়ক শক্তি ছিল। এমন একটি মতাদর্শের সঙ্গে কোনো আপস করা সম্ভব নয়। এ ধরনের আপস হলে তা আত্মঘাতী এবং আমাদের আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

শিবিরের এই নেতার পোস্টে সাভার পেশাজীবী থানা জামায়াতের সেক্রেটারি সোহেল প্রিন্স মন্তব্য করেছেন, ‘এই প্রার্থী চেঞ্জ করা সময়ের দাবি। একে রাখা মানে নিশ্চিত পরাজয় মেনে নেওয়া। এনসিপির উচিত দাঁড়িপাল্লাকে সমর্থন দিয়ে তাদের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করা।’

এদিকে, ১৯ জানুয়ারি সাভারের বাইপাইল এলাকায় ‘জুলাইযোদ্ধা’ ব্যানারে দিলশানা পারুলের মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন হয়। বক্তারা তাঁর মনোনয়ন প্রত্যাহারের দাবি জানান। মানববন্ধনের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার নিজের ফেসবুকে দিলশানা লিখেছেন, ‘প্রিয় বাইপালের মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা, আমি দিলশানা পারুল ১০ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী, আমি আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করব না। বরং আমি আপনাদের দোয়া চাই।’

নরসিংদী-২ (পলাশ, নরসিংদী সদরের একাংশ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দিয়েছেন আমজাদ হোসাইন। একই আসনে এনসিপির পক্ষে মনোনয়ন দিয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম সারোয়ার, যিনি সারোয়ার তুষার নামে পরিচিত। এনসিপির চূড়ান্ত মনোনীত ৩০টি আসনের মধ্যে তুষারের আসনও একটি।

স্থানীয় জামায়াত নেতা মাসুম বিল্লাহ সোহান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার থাকলে বয়কট করলাম নির্বাচন।’ তিনি সারোয়ার তুষার ও এনসিপির সাবেক এক নেত্রীর প্রসঙ্গে আরেকটি পোস্টও শেয়ার করেছেন।

নরসিংদী-২ আসনের পাঁচদোনা ইউনিয়নের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মারুফ বিল্লাহ লিখেছেন, ‘নরসিংদী-২ আসনে যোগ্য প্রার্থী মাওলানা আমজাদ হোসেন ভাইয়ের বিকল্প নেই। অন্য কাউকে দিলে নির্বাচন প্রত্যাহার করলাম।’

লক্ষ্মীপুর-১ আসনে এনসিপির হয়ে নির্বাচন করছেন মাহবুব আলম। তিনি সদ্য পদত্যাগ করা ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের বড় ভাই। খোঁজ জানালে দেখা গেছে, এই আসন নিয়েও স্থানীয় জামায়াত-শিবিরে ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দল হিসেবে এনসিপির বিরোধিতা করছেন না, বরং প্রার্থী মাহবুব আলমকে মানতে নারাজ।

অবশ্য এই আসনে মঙ্গলবার নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন জামায়াতের নাজমুল হাসান। লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ভোটার ও শিবির কর্মী রাজিব হাসান ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি, আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ায় অংশগ্রহণ করব না। তবে গণভোটে ‍হ্যাঁ বলুন।’

এনসিপির প্রার্থীদের প্রতি স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর ক্ষোভের বিষয়ে সমর্থকরা বলছেন, দল হিসেবে তারা এনসিপির বিরোধিতা করছেন না, সমস্যা মূলত প্রার্থীদের নিয়েই।

লক্ষ্মীপুর-১ আসনের অন্তর্গত ৩ নম্বর ভাদুর ইউনিয়নের জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মোরশেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রার্থী মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। এনসিপি দল নিয়ে আমাদের সমস্যা নেই, এই দলের অনেকেই আমাদের পছন্দ। কিন্তু লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থী নিয়ে নেতাকর্মীরা কিছুটা নাখোশ।’

কেন নাখোশ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে প্রার্থী করা হয়েছে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ভাই মাহবুব আলমকে। তিনি কখনোই এলাকায় আসেন না। এলাকার মানুষ তাঁকে চিনে না। এছাড়া কিছুদিন আগে মাহফুজ আলম আমাদের সংগঠনের ব্যাপারে অনেক আজেবাজে মন্তব্য করেছেন। সব মিলিয়ে নেতাকর্মীরা কিছুটা ক্ষিপ্ত।’

১০ দলীয় ঐক্য যদি মাহবুব আলমকে সমর্থন দেয়, তাহলে তাঁরা সমর্থন করবেন কিনা– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সংগঠনের সিদ্ধান্ত মেনে নেব। তবে এখনো আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

নরসিংদী-২ আসনেও একই কারণে এনসিপি প্রার্থীর ওপর ক্ষিপ্ত স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। ওই আসনের পাঁচদোনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুলমাল সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ সোহান বলেন, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত আমজাদ ভাইকেই চেয়েছিলাম। আজ তিনি যেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন, সেই জন্য তাঁকে আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু জোটের সিদ্ধান্ত মানতে গিয়ে তাঁকে প্রত্যাহার করতে হলো।’

অন্য কেউ প্রার্থী হলে ভোট বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় এই জামায়াত নেতা। তিনি বলেন, ‘অন্য কেউ প্রার্থী হলে আমরা তা মেনে নিতে পারব না। সারোয়ার তুষারের পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। এত মাস দাঁড়িপাল্লার হয়ে গণসংযোগ করেছি। হুট করে অন্য কারও পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়।’

নেতাকর্মীর আচরণে অসন্তুষ্ট এনসিপির প্রার্থীরাও। তারা বলছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক দূরত্ব রয়েছে। আছে অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণও।

দিলশানা পারুল বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে জোটের প্রার্থীরা কিছুটা অসহযোগী। আমি সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি, আশা করি সমাধান হবে।’

কেন অসহযোগী মনে হচ্ছে– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে স্থানীয় নেতাকর্মীর যোগাযোগের অভাব রয়েছে, বোঝাপড়ারও ঝামেলা থাকতে পারে।’

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ঐক্যের প্রার্থী মাহবুব আলম জামায়াত-শিবিরের আচরণকে অসহযোগিতা নয়, বরং তাদের কষ্টের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘তারা নিজেদের প্রার্থীর পেছনে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। এখন জোটের সিদ্ধান্ত মানতে অন্যকে সমর্থন দেওয়া লাগছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি তাদের জন্য কষ্ট। তাই তারা সেই কষ্ট প্রকাশ করছেন। তবে এটি তাদের সেক্রিফাইস।’

মাহবুব আলম আশা করেন, ‘জামায়াত একটি সুশৃঙ্খল দল। তারা দলের নেতাদের নির্দেশ মেনে চলে। আশা করি আমরা এখন একসঙ্গে কাজ করতে পারব।’ 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন