১১ দলের আসন সমঝোতা করতে তৎপর জামায়াত
| জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (বাঁ থেকে) |
আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দল। কে কতটি আসনে নির্বাচন করবে, তা নিয়ে কয়েকটি দলে কিছুটা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগেই আসন সমঝোতায় পৌঁছানো যাবে বলে আশা করছেন ১১ দলের নেতারা।
নির্বাচনী সমঝোতার ভিত্তিতে গঠিত ১১ দলের সাতজন নেতার সঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার কথা বলা হয়। তাঁরা জানান, গত ২৯ ডিসেম্বরের পর, যেদিন মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল, আসন সমঝোতা নিয়ে ১১ দলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কোনো বৈঠক হয়নি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে কথাবার্তা চলছে।
এর পাশাপাশি বিভিন্ন দলের সঙ্গে পৃথকভাবে জামায়াতের নেতারা আসন সমঝোতা নিয়ে বৈঠক করছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়, অর্থাৎ ২০ জানুয়ারির আগেই আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলে সাতজন নেতা আশা প্রকাশ করেছেন।
নির্বাচনী আসন সমঝোতায় শুরুতে ছিল আটটি রাজনৈতিক দল। পরে এই সমঝোতায় যুক্ত হয় এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি। একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে আট দলের আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসনের দাবি তোলে। অন্য দলগুলোর দাবিও ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে শেষ পর্যায়ে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হলে ইসলামী আন্দোলনসহ কয়েকটি দলের মধ্যে আসনসংখ্যা নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়।
সমঝোতা হলে প্রতিটি আসনে ১১ দলের একজন করে প্রার্থী থাকবেন বলে জানান বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন। তিনি বলেন, আসন সমঝোতার বিষয়ে তাঁরা আশাবাদী।
ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আলোচনা চলছে
সমঝোতার আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায়ই জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি আসনে এবং ইসলামী আন্দোলন ২৬৮টি আসনে দলীয় প্রার্থী দেয়। এর পাশাপাশি এনসিপি ৪৭টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি, খেলাফত মজলিস ৬৮টি, এলডিপি ২৪টি, খেলাফত আন্দোলন ১১টি, নেজামে ইসলাম পার্টি ৬টি, জাগপা ৩টি এবং বিডিপি ২টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়।
সমঝোতার আলোচনা প্রায় শেষ হওয়ার পথে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হতে পারে।
— গাজী আতাউর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামী আন্দোলন
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আসন সমঝোতার বিষয়ে আগের তুলনায় এখন বেশি নমনীয় ইসলামী আন্দোলন। গত বুধবার জামায়াতের সঙ্গে দলটির একটি বৈঠক হয়েছে। প্রথম বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার বাসায়। ওই বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। এ ধরনের বৈঠক আরও হবে। শেষ পর্যন্ত ইসলামী আন্দোলনকে আসন সমঝোতায় রাজি করানো যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও দলটির মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে বলেন, সমঝোতার আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শিগগিরই এটি চূড়ান্ত হতে পারে।
এনসিপির সঙ্গেও আলোচনা চলছে
১১-দলীয় নির্বাচনী সমঝোতায় এনসিপিকে ৩০টি আসনে জামায়াত ছাড় দেবে—এমন আলোচনা রয়েছে। তবে সারা দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে এনসিপির ৪৭ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।
এনসিপির দায়িত্বশীল দুজন নেতা বলেন, আলোচনা চলছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে আসনসংখ্যা ৩০-এর কম হতে পারে—এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এনসিপি ৩৫ থেকে ৪০টি আসন চায়।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘আসন সমঝোতার বিষয়টি নিয়ে অবিশ্বাস তৈরি করতে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এনসিপির ৪৪টি মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। আমরা মনে করি, সমঝোতায় এনসিপি ৩০টির বেশি আসন পাবে।’
সমঝোতার চেষ্টা অব্যাহত
নির্বাচন ও আসন সমঝোতা নিয়ে গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস একটি বৈঠক করে। ওই বৈঠকে দল মনোনীত প্রার্থীরা অংশ নেন। সেখানে দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সমঝোতার ধরন যা-ই হোক, নির্ধারিত কিছু আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস অবশ্যই রিকশা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
ওই বৈঠকের পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় কমিটির এক নেতার সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, তাঁদের লক্ষ্য ২৫ থেকে ৩০টি আসন। ইতিমধ্যে ১৩টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত আসনে ছাড় না পেলে, সমঝোতা না হওয়া অবশিষ্ট আসনগুলোতে দলীয় প্রতীকে তাঁদের প্রার্থীরা নির্বাচন করবেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘আলোচনা চলমান রয়েছে। শিগগিরই আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে।’
Comments
Comments